AB Live News
নথি জমায় চরম সময়সীমা সুপ্রিম কোর্টের, অ্যাডমিট কার্ড বিতর্কেও ইতি

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েনে ইতি টানতে কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে কমিশনের পোর্টালে আপলোড না হওয়া সমস্ত নথি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি, ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সংশয় দূর করেছে শীর্ষ আদালত।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে নথি জমার নির্দেশ
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সমস্ত নথি জমা পড়েছে কিন্তু যান্ত্রিক বা অন্য কোনও কারণে কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা সম্ভব হয়নি, সেগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সমস্ত নথি বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই নথিগুলির মাধ্যমেই তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখবেন বিচারকরা।
অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে স্পষ্টীকরণ
ভোটারের জন্ম তারিখ বা বাবা-মায়ের পরিচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, বুধবার তার ব্যাখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে–
জন্ম তারিখ বা পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের শংসাপত্রের (Certificate) পাশাপাশি অ্যাডমিট কার্ডও বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।
নথি যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই।
বিচারক নিয়োগ ও কাজের চাপ
এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিচারক নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এখনও পর্যন্ত ৫৩২ জন বিচারককে এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে প্রায় দু’হাজার বিচারক প্রয়োজন।
বিকল্প ব্যবস্থা: কাজের চাপ সামলাতে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও এই কাজে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত শক্তি: প্রয়োজনে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকেও বিচারক আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত।
বিচারব্যবস্থায় প্রভাব: এই স্পেশাল ডিউটির কারণে আদালতের স্বাভাবিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রয়োজনে কিছু মামলা অন্যত্র স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারির লক্ষ্যমাত্রা
সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যতটুকু কাজ সম্পন্ন হবে, তার ভিত্তিতেই প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বাকি তালিকা পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা যাবে। মূলত রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দূর করতেই বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

