Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ভাষা দিবসে অনন্তকে বঙ্গবিভূষণ

0 675,379

 

বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজনৈতিক আবহ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত, সেই সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মঞ্চে এক ভিন্ন বার্তা উঠে এল কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাশেই ভাষা দিবসের মঞ্চে দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজ-কে। শুধু উপস্থিতিই নয়, রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ তুলে দেওয়া হল তাঁর হাতে। আর সেই দৃশ্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।
প্রতি বছরের মতো এবারও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। শহিদদের স্মরণে প্রথমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গেই অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন অনন্ত মহারাজ। শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার পর দু’জনকেই একসঙ্গে ভাষা দিবসের মঞ্চে উঠতে দেখা যায়। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর ডান পাশেই নির্দিষ্ট ছিল অনন্তর আসন—যা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়ায়।
এ বছরের বঙ্গবিভূষণ প্রাপকদের তালিকা ছিল দীর্ঘ। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো হয়। তবে তালিকার প্রথম নামটি ছিল কোচবিহারের রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজের। রাজবংশী সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি জানিয়ে রাজ্য সরকার তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁর হাতে বঙ্গবিভূষণ পদক তুলে দেন।
সম্মান গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন অনন্ত মহারাজ। তিনি মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য স্মরণ করেন এবং রাজবংশী সমাজের ইতিহাস ও আত্মপরিচয় নিয়ে একটি কবিতাও পাঠ করেন। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষাই তাঁর কাছে প্রধান কর্তব্য। তাঁর বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত ও সংযত।
তবে অনুষ্ঠানস্থলে বেশি সময় থাকেননি বিজেপি সাংসদ। সম্মান প্রদানের পরই মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনন্ত মহারাজের বিমান ধরার তাড়া রয়েছে এবং অন্য কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর। সেই কারণেই তিনি পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে থাকতে পারছেন না। রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে উপস্থিত থাকার জন্য অনন্তকে কৃতজ্ঞতাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান অনন্ত মহারাজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের মঞ্চে বিজেপি সাংসদের সম্মাননা—এই সমীকরণ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে দুই প্রধান দলের কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পদ্মশিবিরের অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে কিছুটা অস্বস্তির কথাও শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ তেমন প্রতিক্রিয়া দেননি। তৃণমূলের বক্তব্য, ভাষা দিবস ও বঙ্গবিভূষণ সম্মান সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পরিসরে দেওয়া হয় এবং সমাজের অবদানকে মর্যাদা দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
ভাষা শহিদদের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান তাই এবার শুধু সাংস্কৃতিক তাৎপর্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, তা ছাপিয়ে রাজনৈতিক বার্তাও বহন করল। ভোটের আগে এই প্রতীকী দৃশ্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper