AB Live News
পাকিস্তানকে উড়িয়ে সুপার এইটে ভারত

বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ফের দুরমুশ করল টিম ইন্ডিয়া। ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। সেইসঙ্গে গ্রুপ এ থেকে সুপার এইট কনফার্ম করল গৌতম গম্ভীরের দল। ঝুলে রইল পাক ভাগ্য।
ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠল করমর্দন বিতর্ক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গলল না বরফ। পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে হাত মেলালেন না সূর্যকুমার যাদব। রবিবার টসের সময় বিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন তিনি। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই সংবাদ সংস্থাকে বোর্ডের এক সূত্র বলে দেন, ‘করমর্দন না করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটাই থাকবে।’ ম্যাচের পরেও দুই দলের ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফরা হাত মেলাবেন না। যদিও দু’দেশের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে এতটা শীতলতা নেই। ম্যাচের আগে রিঙ্কু সিং এবং ফাহিম আশরফকে হাসাহাসি করতে দেখা গিয়েছে। সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটিং মন দিয়ে লক্ষ্য করেছেন বরুণ চক্রবর্তী।
এদিকে, ম্যাচের আগেই মাঠে হাজির ছিলেন রোহিত শর্মা। খেলা শুরুর আগে ভারতীয় দলের ডাগ আউটে গেলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করলেন। হাত মেলালেন। সকলকে উৎসাহ দিলেন গত বারের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়ক। খেলা শুরুর আগে ডাগ আউটের বাইরে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলছেন রোহিত। ঈশান কিসানকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তাঁদের উৎসাহ দেন। ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও সেখানে ছিলেন। এছাড়াও আইসিসি প্রধান জয় শাহ উপস্থিত ছিলেন ম্যাচে।
এদিন ফের টসে হারেন সূর্যকুমার। দলে দু’টি পরিবর্তনের কথা জানান স্কাই। সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে দলে আসেন অভিষেক শর্মা। কিন্তু তিনি এদিন চূড়ান্ত ব্যর্থ। চারটি বলের মোকাবিলা করেও খাতা খুলতে পারেননি অভিষেক। আর আর্শদীপের পরিবর্তে এই ম্যাচে সুযোগ পান কুলদীপ যাদব।
অভিষেক ব্যর্থ হলেও, ঈশান কিসান ছিলেন এদিন নিজস্ব মেজাজে। কভার ড্রাইভ থেকে রিভার্স সুইপ, সব ধরনের শটই খেললেন একেবারে অনায়াস ভঙ্গিমায়। সাইম আয়ুবের বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন তিনি। কিন্তু তার আগে গড়ে দিয়ে যান দলের ভিত। ৪০ বলে ৭৭ রান করেন ঈশান। তিনটি ছক্কা ও ১০টি চার রয়েছে তাঁর ইনিংসে।
তিলক বর্মা ২৫ রান করলেও, খেলেছেন ২৪ বল। টি-টোয়েন্টি যুগে বেশ মন্থর ব্যাটিং করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এখনও ফর্মের ধারে কাছে নেই তিলক। হার্দিক পান্ডিয়া নেমেই প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাবর আজমের হাতে ধরা দেন। দুই উইকেটই নেন সাইম আয়ুব। বরং শিবম দুবে নেমে রানরেট কিছুটা বাড়ান। প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে হাত খোলেন তিনি। তবে সূর্যও এদিন বেশ মন্থর ব্যাটিং করেন। ২৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন তিনি।
১৭ বলে ২৭ রান করেন দুবে। ১৯.৫ ওভারে রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির জন্য রান আউটের কবলে পড়েন তিনি। শেষ বলে নেমে আউট হয়ে যান অক্ষর প্যাটেলও। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত।
পাকিস্তানের মতো অবশ্য ভারত শুরুতেই স্পিন আক্রমণ আনেনি। হার্দিক-বুমরা যুগলবন্দি দিয়েই শুরু করেন স্কাই। সাফল্যও মেলে। ভারতের দুই পেসার ১৩ রানের মধ্যে পাকদের প্রথম তিন ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান। প্রথম ওভারেই ফারহানকে আউট করেন হার্দিক। আর দ্বিতীয় ওভারে দু’টি উইকেট তুলে নেন বুমরা। চার নম্বরে নেমে বাবরও দলের ভাঙনের মুখে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। অক্ষরকে ছয় মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এরপর অবশ্য উসমান খান পাকদের লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
৩৪ বলে ৪৪ রান করে আউট হন উসমান। অক্ষরের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্প হয়ে যান তিনি। পরের ওভারে নওয়াজকে ফেরান কুলদীপ। শাদাব খানকে আউট করেন তিলক। তাঁর প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন শাদাব। বাকিটা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ভারতের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন হার্দিক, বুমরা, অক্ষর ও বরুণ। একটি করে উইকেট পেয়েছেন কুলদীপ ও তিলক।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

