AB Live News
তৃণমূল সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প, ১৫০০ টাকার ভাতায় বেকার যুবকদের হতাশা, চাকরির দাবিতে লাইন

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নতুন ‘যুবসাথী’ (বাংলার যুবসাথী) প্রকল্পের আবেদন ক্যাম্পে আজ থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু এই প্রকল্প যেন বেকার যুবক-যুবতীদের হতাশা ও ক্ষোভের আগুন আরও জ্বালিয়ে দিয়েছে। মালদহ, শিলিগুড়ি, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্লক-ব্লকে বসানো ক্যাম্পে লম্বা লাইন পড়েছে। বিএ, বিএসসি, বিকম থেকে এমএ পাস করা যুবক-যুবতীরা দাঁড়িয়ে আছেন মাসিক ১৫০০ টাকার ভাতার জন্য আবেদন করতে—কিন্তু তাঁদের মুখে একই সুর: “এই টাকায় কিছু হয় না, চাকরি চাই!”
এক যুবক সাংবাদিকদের বলেন, “রোজ বাইকে ২ লিটার পেট্রল লাগে, কিছু তো সাহায্য হবে।” কিন্তু তাঁর কথাতেই স্পষ্ট—এটা সাময়িক স্বস্তি মাত্র। আরেক এমএ পড়ুয়া ইতিহাসের ছাত্র বলেন, “বাংলার যুবকরা হতাশ। ভাতা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না। বাধ্য হয়ে এসেছি। কী করব বলুন?” স্নাতক স্তরের এক পড়ুয়া যোগ করেন, “১৫০০ টাকায় কিছুই হয় না। চাকরি দরকার।”
কলকাতায় এক তরুণী বলেন, “চাকরি নেই, আমার ফিল্ডে তো নেই।” আরেক যুবকের কথা, “এই সব ভাতা না দিয়ে যদি একটু চাকরির সুযোগ দিত ভাল হতো।” এক যুবতী স্পষ্ট করে দেন, “আপাতত ঠিক আছে। কিন্তু চাকরি বেশি দরকার। যে টাকা ভাতা দিচ্ছে সেই টাকাই যদি স্যালারি দেয় তাতেও কাজ করব।” ভাতা সাময়িক, চাকরি স্থায়ী—এই বার্তাই ফুটে উঠছে প্রত্যেকের কথায়।
তৃণমূলের ভোটের ফাঁদ?
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার এই প্রকল্প ঘোষণা করে ১ এপ্রিল থেকে চালু করার কথা বলেছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের (মাধ্যমিক পাস) মাসিক ১৫০০ টাকা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত বা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত। কিন্তু শিক্ষিত যুবসমাজের প্রশ্ন—যেখানে চাকরির বাজার শুকিয়ে গেছে, সেখানে এই অল্প টাকার ভাতা কি শুধু ভোট টানার ফাঁদ? কেন চাকরি দেওয়ার বদলে ভাতা দিয়ে যুবকদের হাতে-পায়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে?
রাজ্যজুড়ে ক্যাম্পে লাইন দেখে স্পষ্ট—যুবসাথী নয়, যুবকদের চাই স্থায়ী কর্মসংস্থান। তৃণমূল সরকারের বছরের পর বছর চাকরি না দেওয়ার নীতি এখন যুবসমাজের ক্ষোভে ফুঁসছে। ভাতার ১৫০০ টাকা দিয়ে কি বাংলার যুবশক্তির স্বপ্ন কেনা যায়? উত্তর সবাই জানে—না!
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

