AB Live News
পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ জোর চালু হল ‘প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প’, মিলবে দেড় লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসা

নয়াদিল্লি: দুর্ঘটনা কখন, কোথায়, কীভাবে আঘাত হানবে—তা আগে থেকে আন্দাজ করা অসম্ভব। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও তাতে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা—যাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়—এই সময়টুকুই জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা মিললে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প (PM Rahat Scheme)—একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যার লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত ও ক্যাশলেস চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
কেন এই প্রকল্প?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ পথ দুর্ঘটনার শিকার হন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছনোর কারণে প্রাণ হারান। সমীক্ষা বলছে, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে প্রায় ৫০ শতাংশ মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। সেই কারণেই ‘গোল্ডেন আওয়ার’কে গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প?
এই প্রকল্পটি সংযুক্ত রয়েছে জাতীয় জরুরি পরিষেবা নম্বর ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম ১১২ (ERSS 112)-এর সঙ্গে। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তি বা কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ১১২ নম্বরে ফোন করলেই সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশন, অ্যাম্বুল্যান্স এবং হাসপাতালের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। ফলে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ, স্বাস্থ্য দফতর ও জরুরি পরিষেবার মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে—যা দুর্ঘটনাগ্রস্তের প্রাণরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
কী কী সুবিধা মিলবে?
প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্পের সবচেয়ে বড় দিক হল ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা।
দুর্ঘটনার দিন থেকে সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত প্রতি ব্যক্তির জন্য দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা দেওয়া হবে।
তুলনামূলক কম গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চিকিৎসা সুরক্ষিত থাকবে।
এই সুবিধা পেতে হলে পুলিশের প্রাথমিক যাচাই প্রয়োজন হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং দ্রুত ক্লেম নিষ্পত্তি করা যায়।
হাসপাতালের খরচ কীভাবে মেটানো হবে?
চিকিৎসার খরচ বহন করা হবে মোটর ভেহিকেল অ্যাক্সিডেন্ট ফান্ড থেকে। যদি দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির বৈধ বিমা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট জেনারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানি খরচ বহন করবে। আর যদি গাড়ির বিমা না থাকে বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করবে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে অনুমোদিত ক্লেম ১০ দিনের মধ্যে মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে হাসপাতালগুলির আর্থিক সমস্যা না হয় এবং চিকিৎসা পরিষেবা অব্যাহত থাকে।
একটি মানবিক পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি মানবিক উদ্যোগ—যেখানে অর্থের অভাবে বা বিলের চিন্তায় যেন কোনও দুর্ঘটনাগ্রস্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন। দ্রুত সাড়া, সমন্বিত পরিষেবা এবং ক্যাশলেস চিকিৎসার এই ব্যবস্থা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার কমাতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই আশা করছে কেন্দ্র।
দুর্ঘটনা এড়ানোই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা—তবু যদি বিপদ আসে, তখন যেন সাহায্যের হাত পৌঁছে যায় সময়মতো। প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প সেই আশ্বাসই দিচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

