Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

‘নির্বাচন নয়, পরিকল্পিত প্রহসন’, ইউনূস সরকারকে তীব্র আক্রমণ হাসিনার

0 7,654,480

দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভোট বাতিলের দাবি আওয়ামি লিগ সভাপতির, নিস্তেজ ভোটে কারচুপির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: (ঢাকা) বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ ও ‘গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, দেশবাসী সম্মিলিতভাবে এই ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই সাহসিকতার জন্য জনগণকে ধন্যবাদও জানান।
‘ভোটারহীন’ কেন্দ্রের চিত্র
শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের অধিকাংশ জনপদে ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল কার্যত ‘ভোটারশূন্য’। তিনি বলেন, “অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সরকারের এই তথাকথিত নির্বাচন আসলে একটি সুপরিকল্পিত নাটক। জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামি লিগকে বাইরে রেখে এই প্রতারণামূলক আয়োজন করা হয়েছে।”
পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক ও জালিয়াতির অভিযোগ
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যের অসংগতি তুলে ধরে হাসিনা ও তাঁর দলের নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংবাদে প্রকাশ, বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে তা লাফিয়ে ৩২.৮৮ শতাংশে পৌঁছায়।
আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে এই উল্লম্ফনকে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘অবিশ্বাস্য’ বলে দাবি করা হয়েছে। দলটির দাবি, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও এখানে কৃত্রিমভাবে সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শেখ হাসিনার অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ব্যালটে সিল মারা, কেন্দ্র দখল এবং টাকার ছড়াছড়ির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা শুরু হয়েছিল।
“সকল ভয়ভীতি ও হামলা উপেক্ষা করে আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ এই ভোট বর্জন করেছেন। ভোটারবিহীন এই অবৈধ নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।” — শেখ হাসিনা
আওয়ামি লিগের চার দফা দাবি
নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা স্পষ্ট কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন–
নির্বাচন বাতিল: চলমান ‘প্রহসনের’ ভোট অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনরায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার: কারাবন্দি রাজবন্দি, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করা।
উদ্বেগে বিএনপি-ও
এদিকে ভোটের নিম্ন হার নিয়ে কেবল আওয়ামি লিগই নয়, উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি-ও। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভোটারদের এই অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। তারা আশা করেছিল জনগণের অংশগ্রহণ আরও বেশি হবে, যা তাদের ভাষায়— ভোটের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করত।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্ন গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে। তবে আওয়ামি লিগের দাবি, তাদের সমর্থকদের জোর করে কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সচেতন জনতা তা রুখে দিয়েছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper