AB Live News
সরকারি রিসর্টেই রাজকীয় বিয়ে! স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ এবার মধ্যবিত্তের হাতের মুঠোয়

বিয়ের দিনটি জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। যেখানে আবেগ, আচার আর আনন্দ মিলেমিশে তৈরি করে আজীবনের স্মৃতি। অনেকেরই ইচ্ছে থাকে পাহাড়ের কুয়াশা, সমুদ্রের নোনা হাওয়া কিংবা প্রকৃতির নিস্তব্ধতার মাঝে সাতপাক ঘোরার। কিন্তু সেই স্বপ্নের সঙ্গে জুড়ে থাকে মোটা অঙ্কের খরচের হিসেব, যা বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে। এবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামাতে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। সরকারি পর্যটন রিসর্টেই তৈরি হচ্ছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের আধুনিক পরিকাঠামো। যেখানে থাকবে ব্যাঙ্কোয়েট হল, হানিমুন স্যুট, বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা এবং এক ছাদের তলায় বিয়ের যাবতীয় আয়োজন। লক্ষ্য একটাই, স্বপ্নের বিয়ে হোক নিজের রাজ্যেই, আর তা হোক সবার সাধ্যের মধ্যে।
রাজ্যের পর্যটন দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারি পর্যটন কেন্দ্রগুলিকেই গড়ে তোলা হবে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের উপযুক্ত ঠিকানা হিসেবে। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’-এর অধীনে থাকা প্রায় ৪০টি রিসর্টে ধাপে ধাপে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। যার লক্ষ্য আসন্ন শীতের বিয়ের মরশুমেই এই কেন্দ্রগুলিকে প্রস্তুত করে তোলা। সম্প্রতি ‘শেপিং দ্য ফিউচার অফ ট্যুরিজম ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডারস কনফারেন্সে এই পরিকল্পনার কথা জানান পর্যটন দফতরের অতিরিক্ত প্রধান সচিব বরুণ রায়। তাঁর কথায়, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বিয়ের আসর বসাতে গেলে আধুনিক সুবিধা থাকা জরুরি। তাই সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হচ্ছে আধুনিক ব্যাঙ্কোয়েট হল থেকে শুরু করে নবদম্পতির জন্য বিশেষ হানিমুন স্যুট এবং বিলাসবহুল কক্ষ।
সরকারি তরফে এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবার। খরচ এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যাতে তা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই থাকে। অর্থাৎ ‘বাজেট-ফ্রেন্ডলি’। পাহাড়প্রেমীদের জন্য উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং। সমুদ্রপাড়ের বিয়ের স্বপ্নে দিঘা, আর প্রকৃতির অন্য রূপের খোঁজে পুরুলিয়া। এছাড়াও রাজ্যের নানা প্রান্তেই এই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের সম্ভাবনা দেখছে পর্যটন দফতর। একই ছাদের নিচে থাকা-খাওয়া থেকে বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সবকিছুর সুব্যবস্থা থাকলে আয়োজনের ঝক্কি যেমন কমবে, তেমনই বাড়বে অভিজ্ঞতার আকর্ষণ। তবে এই উদ্যোগে বেসরকারি অংশীদারদেরও পাশে চাইছে সরকার। পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, ভবিষ্যৎ পর্যটন নীতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং প্রশাসনিক সহায়তায় কোনও ঘাটতি থাকবে না। সম্মেলনে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপারেটরস-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম প্রোমোশন বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, পর্যটনের চাহিদা দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য একটি নির্দিষ্ট পর্ষদ প্রয়োজন।
বিয়ের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রসঙ্গও। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম সাব-কমিটির চেয়ারম্যান জামলিং তেনজিং নোর্গে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান। হাইকিং, রিভার র্যাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং যে কোনও রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তাই প্রথম শর্ত, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব-এর মতে, আপাতত হাইকিং, হট এয়ার বেলুন রাইড বা ট্রেকিংয়ের মতো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। হিমালয়ান মাউন্টেনিং ইনস্টিটিউট এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিকাঠামো তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সরকারি উদ্যোগে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং শুধু একটি নতুন পরিষেবা নয়। এটি রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে নতুন মাত্রা দেওয়ার পরিকল্পনা। পাহাড়, সমুদ্র আর প্রকৃতির আবহে এবার হয়তো অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের বহুদিনের স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

