AB Live News
ওপারে ভোট, এপারে হাই-অ্যালার্ট সীমান্তজুড়ে বিএসএফ ও পুলিশের ‘নিশ্ছিদ্র’ নিরাপত্তা বলয়

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওপার বাংলায় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। ওপার বাংলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্বাচনী উত্তাপের আঁচ যাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা সীমান্তে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, সেজন্য গোটা সীমান্তজুড়ে জারি করা হয়েছে ‘হাই-অ্যালার্ট’। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যৌথভাবে তৈরি করেছে এক অভেদ্য নিরাপত্তা বর্ম।
নির্বাচনী অস্থিরতার আশঙ্কায় বুধবার থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ঘোজাডাঙা এবং এশিয়ার বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএসএফ-এর দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুপ্রবেশ রুখতে এবং চোরাচালান বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে নদীপথ— সর্বত্র টহলদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ইছামতী ও কালিন্দী নদীর জলপথে স্পিডবোটে রাতভর নজরদারি চালাচ্ছেন জওয়ানরা। রাতের অন্ধকারে কেউ যাতে সীমান্ত পার হতে না পারে, সেজন্য বসানো হয়েছে অতিরিক্ত ফ্লাডলাইট ও অস্থায়ী চেকপোস্ট।
বসিরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাদুড়িয়া থানার লবঙ্গ এলাকা, ন্যাজাট থানার কানমারি, এবং হাসনাবাদ থানার বনবিবি সেতুসহ সুন্দরবনের হেমনগর কোস্টাল এলাকায় কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক যে কোনও গতিবিধি রুখতে শহরের প্রবেশ ও বাহির পথে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। রাত থেকেই প্রতিটি গাড়ি ও মোটরবাইক থামিয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (আইবি) প্রতিটি সংবেদনশীল পয়েন্টে সাদা পোশাকে নজরদারি চালাচ্ছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিভ্রান্তিকর গুজব যাতে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। বসিরহাটের পুলিশ সুপার ডক্টর হোসেন মেহেদি রহমান জানিয়েছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও উসকানিমূলক মন্তব্য বা গুজব নজরে এলেই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইবার সেল ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছে।” তিনি আরও জানান, সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পয়েন্ট চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে। কোনও ধরনের নাশকতা বা অশান্তির আঁচ এপারে আসতে দেওয়া হবে না।
সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। ওপার বাংলায় একাধিক জায়গায় অশান্তির খবরের প্রেক্ষিতে এপারে বিএসএফের এই তৎপরতা বাসিন্দাদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভয় দিয়ে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জল ও স্থল— উভয় পথেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে দুষ্কৃতীদের চলাচল রুখতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন।
বাংলাদেশের এই ভোটযুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং ওপারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি থাকবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

