AB Live News
গভীর উৎকণ্ঠায় চলছে বাংলাদেশের ভোটগ্রহণ
শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট। আজ, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ঠিক সকাল সাড়ে সাতটায় সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী পক্ষ আওয়ামি লিগ অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বা ‘ভোটার টার্নআউট’ নিয়ে জনমনে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনি জুলাই সনদের ভিত্তিতে আয়োজিত গণভোটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উদ্দীপনা।
সকালের চিত্র: বুথে বুথে দীর্ঘ সারি
রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও মিরপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কোনও কোনও কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বদ্ধপরিকর।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভোট প্রদান
সকাল সকাল নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুলশান মডেল স্কুল কেন্দ্রে সপরিবারে ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনের ৬০ ফিট এলাকার মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) কেন্দ্রে ভোট দেবেন। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ সংলগ্ন একটি বুথে ভোট দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর দফতর।
নজরদারিতে কড়াকড়ি: টাকা ও অনিয়ম উদ্ধার
ভোটের সকাল শান্ত থাকলেও গতকাল বুধবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনিয়মের বিক্ষিপ্ত খবর আসতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
নিরাপত্তা ও জুলাই সনদ
সারাদেশে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর বিশাল বহর। অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিবেশ অনেকটাই থমথমে কিন্তু স্থিতিশীল। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ‘গণভোট’। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া চার দফার সনদের ভিত্তিতে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিচ্ছেন নাগরিকরা। আওয়ামি লিগের বয়কট এই নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সারাদিন এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটার উপস্থিতি আশাতীত হতে পারে। এখন সবার নজর বিকেলের পরিসংখ্যানের দিকে—জনগণ কি ব্যালটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে?
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

