Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কৌশল ভিএফএক্স

0 12,431

খবর এখন: বর্তমান যুগে পুঁথিগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিদ্যাও প্রয়োজন। ছোট থেকে বড় আমরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন কার্টুন, সিনেমা আরও অনেক কিছু দেখি। আর মনে মনে ভাবি কী সুন্দর, কী করে হল এই রকম আরও কত কী। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রযুক্তির কারুকার্য। টেলিভিশনের পর্দায় আজ যা কিছু অসম্ভব মনে হয়, ভিএফএক্স বা ভিজ্যুয়াল এফেক্টস সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে তোলে। উড়ন্ত সুপারহিরো, ভিনগ্রহের প্রাণী, ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর, কিংবা হাজারো সৈন্যের যুদ্ধ—এসবই ভিএফএক্সের কারিশমা। আধুনিক বিনোদন জগতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এই প্রযুক্তি।

ভিএফএক্স কী?

ভিএফএক্স হল এমন এক ধরনের প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কল্পনা করা দৃশ্য একেবারে যেন বাস্তব রূপ ধারণ করে। এই সমস্ত ঘটনাগুলিকে ফুটিয়ে তোলার একমাত্র সঙ্গী কম্পিউটার। দৃশ্যের সঙ্গে কম্পিউটার-নির্মিত চিত্র যুক্ত করে তৈরি করা হয় নতুন একটি দৃশ্য। সহজ কথায়, ক্যামেরায় যা ধারণ করা সম্ভব নয়, ভিএফএক্স তার বিকল্প পথ তৈরি করে দেয়। আগুন, বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কল্পনার জগৎ—সবই ভিএফএক্সের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠা এবং এই রকম যা যা দেখি সেগুলি সবটাই ভিএফএক্সের কামাল।

ভিএফএক্সের ইতিহাস

ভিএফএক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে জর্জ মেলিয়েসের হাত ধরেই পথ শুরু করে ভিএফএক্স। তাঁর চলচ্চিত্রে ট্রিক ক্যামেরা ও স্পেশাল এফেক্ট ব্যবহার করে রীতিমতো দর্শকদের চমকে দিয়েছিলেন। কথায় আছে না সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু বদলে যায়। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ১৯৯০-এর দশকে ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মতো ছবিতে বাস্তবসম্মত ডাইনোসর দেখিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়। এরপর ‘অ্যাভাটার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘বাহুবলী’—ভিএফএক্স এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

ভিএফএক্সের প্রধান উপাদান

ভিএফএক্স মূলত কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়—

কম্পোজিটিং: অনেকগুলো ভিডিও বা ছবি এক সঙ্গে জুড়ে একটি দৃশ্য তৈরি করা।

ম্যাট পেইন্টিং: প্রযুক্তিগত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে।

থ্রিডি মডেলিং ও অ্যানিমেশন: চরিত্র বা বস্তুর ত্রিমাত্রিক রূপ তৈরি। যা দেখে মনে হয় আসলেই এই মডেলগুলো কোনও মানুষ।

রোটোস্কোপিং: একটি ভিডিও থেকে নির্দিষ্ট কোনও অংশের প্রয়োজন হলে তা কেটে আলাদা করে ব্যবহার করা হয়।

সিমুলেশন: আগুন, ধোঁয়া, জল, ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব অনুকরণ ফুটিয়ে তোলে।

ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে ভিএফএক্স

একসময় ভারতীয় সিনেমায় ভিএফএক্সের ব্যবহার সীমিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে একে অপরকে টেক্কা দিতে এর ব্যবহার বেড়েছে। বলিউড ও দক্ষিণী ছবিতে ভিএফএক্স অপরিহার্য। ‘রোবট’, ‘বাহুবলী’, ‘রাবণ’, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’-এর মতো ছবিগুলো প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় ভিএফএক্সও আন্তর্জাতিক মানের হতে পারে। শুধু সিনেমার ক্ষেত্রেই এই ভিএফএক্স থেমে নেই। বরং বিজ্ঞাপন, ওটিটি সিরিজ, মিউজিক ভিডিও এই সব ক্ষেত্রেই ভিএফএক্সের চাহিদা বেড়েছে। পরবর্তীতে যে আরও বাড়বে তা নিয়ে কারওরই কোনও সংশয় নেই।

ভিএফএক্স ও কর্মসংস্থান

শিল্প উন্নতিতে একটা বড় অংশ খুলে দিয়েছে এই ভিএফএক্স। এই শিল্পের জেরে আজ একটি বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে। ভিএফএক্স আর্টিস্ট, থ্রিডি অ্যানিমেটর, কম্পোজিটর, লাইটিং আর্টিস্ট, রিগিং আর্টিস্ট—বিভিন্ন পদের জন্য প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের কাছে ভিএফএক্স একটি আকর্ষণীয় কেরিয়ার অপশন। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সৃজনশীলতা থাকলে দেশ-বিদেশে কাজের সুযোগ রয়েছে।

ভিএফএক্সের চ্যালেঞ্জ

যদিও ভিএফএক্স প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। উচ্চমানের ভিএফএক্স তৈরিতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। অনেক ক্ষেত্রে শিল্পীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ে। এছাড়া বাজেট ও সময়সীমার কারণে কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যতে ভিএফএক্স

দিনে দিনে আরও উন্নতির পথে এগোবে এই ভিএফএক্স। ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ও অগমেন্টেড রিয়ালিটি ভিএফএক্সকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল প্রোডাকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেট ছাড়াই পুরো সিনেমা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আশা রাখা যায় যে শহর থেকে দেশ সব ক্ষেত্রেই এক উন্নতির জোয়ার আনবে এই ভিএফএক্স।

দক্ষতা অর্জনে খরচ

ভিএফএক্স কোর্স শেখার পর, বিশেষ করে অ্যানিমেটেড সিনেমার উত্থানের কারণে, আপনি চলচ্চিত্র শিল্পে প্রচুর ক্যারিয়ারের সুযোগ পেতে পারেন। আজকাল মানুষ অ্যানিমেশন পছন্দ করার সঙ্গে সঙ্গে ক্যারিয়ারের সুযোগ বাড়ছে। ভারতে সাধারণত এর খরচ প্রায় ৮,০০০-২৭.৮ লক্ষ টাকা, যা কোর্সের ধরন এবং কলেজের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

ভিএফএক্স আজ শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি এক ধরনের শিল্প। এটি কল্পনা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন। দর্শকের মনের কোণায় থাকা স্বপ্নের জগৎকে বাস্তবে তুলে ধরাই ভিএফএক্সের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে ভিএফএক্স আরও উন্নত হয়ে আমাদের বিনোদনের অভিজ্ঞতাকে নতুন রূপ দেবে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper