AB Live News
গণ উধাও ৫ কোটি ভোটার
দেশের নির্বাচনী মানচিত্র থেকে এক ধাক্কায় ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেলেন ৫ কোটিরও বেশি ভোটার। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার শেষে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মোট ভোটারের প্রায় ১০ শতাংশের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের অন্তর্ধান নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ১২টি রাজ্যে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫০.৯৭ কোটি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫.৮১ কোটিতে। অর্থাৎ, নিট ভোটার কমেছে ৫.১৮ কোটি। কমিশন সূত্রের খবর, এই প্রক্রিয়ায় সাড়ে ৬ কোটিরও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন নাম যুক্ত হয়েছে মাত্র ১ কোটি ২৫ লক্ষের কাছাকাছি। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৬৬ লক্ষ ৮৮ হাজার জনই মৃত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কয়েক বছর ধরে এত বিপুল সংখ্যক মৃত মানুষের নাম কেন ভোটার তালিকায় রয়ে গেল? তবে কি বিগত নির্বাচনগুলোতে এই ‘ভুয়ো’ নামগুলি ব্যবহার করেই ভোটদান সম্পন্ন হয়েছিল?
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও চিত্রটা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। রাজ্য জুড়ে ‘অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিত করার যে দাবি রাজনৈতিক মহল থেকে করা হয়েছিল, তার প্রতিফলন ভোটার তালিকায় সেভাবে না মিললেও প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য হল, বাংলা থেকে যে হারে নাম বাদ পড়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি হারে নাম কাটা গিয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। বাংলার ১৬টি জেলায় প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ভোটার কমেছে প্রায় ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার। সংশোধনের আগে এই জেলাগুলিতে ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৮০১ জন, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১-এ।
এই ব্যাপক হারে ভোটার ছাঁটাই নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এতদিন ধরে এই কোটি কোটি ‘অযোগ্য’ ভোটার তালিকায় ছিলেন কীভাবে? যদি বর্তমান তালিকাটিই সঠিক হয়, তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন বা তার আগের ভোটগুলি কি আদৌ ত্রুটিমুক্ত ছিল? নির্বাচন কমিশনের এই শুদ্ধিকরণ অভিযান এক অর্থে ভোটার তালিকার কঙ্কালসার চেহারাটাই জনসমক্ষে নিয়ে এল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন ভোটারের নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ৫ কোটির বেশি ভোটারের ‘ভুয়ো’ বা ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়াটা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই যে বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়া হল, তার মধ্যে প্রকৃত ভোটাররা ভুলবশত বাদ পড়েছেন কি না, তা নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকায় এই গণছাঁটাই আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

