AB Live News
কলকাতা হাইকোর্টের তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ ‘সঞ্জয় অনেক কিছু জানে…’
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্তের দ্বার উন্মুক্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজশেখর মান্থা ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, সাজাপ্রাপ্ত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় “অনেক কিছুই জানে”। প্রয়োজনে সিবিআই তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে এবং তদন্তে কোনও দ্বিধা দেখানো চলবে না।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, সঞ্জয় রায় ছাড়াও অন্য যেকোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে প্রয়োজন অনুসারে জেরা করার অধিকার সিবিআইয়ের থাকবে। বিচারপতি মান্থা বলেন, “সিবিআই যেন কোনও দ্বিধা না করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। যত আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি আছে, তার সবকিছু ব্যবহার করুক।”
ঘটনার পটভূমি
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট ভোরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তারের দেহ সেমিনার হলে আধ-উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার হয়। ঘটনায় প্রথমে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিবিআই তদন্তের ভার নেয়। নিম্ন আদালত সঞ্জয় রায়কে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে মৃতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পিছনে আরও বড় ষড়যন্ত্র ও একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। সেই দাবিতে তারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্ট পরে মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তর করে।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিচারপতি রাজশেখর মান্থা খড়্গপুর আইআইটি-র এক ছাত্রের রহস্যমৃত্যুর উদাহরণ টেনে বলেন, “সেখানে প্রথমে রহস্যমৃত্যু বলা হলেও পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় খুন। এই আরজি কর কেসেও ফরেনসিক পরীক্ষায় আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।”
পরিবারের তরফে আদালতে জমা দেওয়া ডিএনএ প্রোফাইল এবং অডিয়ো রেকর্ডিং নিয়ে সিবিআইকে বিস্তারিত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত মৃতার পরিবারের ঘটনাস্থল পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে। বিচারপতি মান্থা বলেন, “পরিবার যদি নতুন করে হলফনামা দিয়ে ঘটনাস্থল ভিজিট করতে চায় এবং সিবিআই তদন্ত এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে রাজ্য সরকারের আপত্তি করার কোনও যুক্তি নেই। মামলায় রাজ্য পার্টি নয়, তাহলে তাদের আপত্তি কীসের?”
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
মৃত চিকিৎসকের বাবা আদালতের এই নির্দেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বিচারপতি রাজশেখর মান্থা পুরো ঘটনা সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল। এবার সিবিআইকে সত্যিকারের কাজ করতে বাধ্য হতে হবে। আমরা আশা করছি, এই নির্দেশের ফলে তদন্ত আরও গভীর ও নিরপেক্ষভাবে এগোবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছে আগামী ১২ মে ২০২৬। এই সময়ের মধ্যে সিবিআইকে নির্দেশিত তদন্তের অগ্রগতি এবং রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ড গোটা দেশজুড়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের কর্মপরিবেশ এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। সুপ্রিম কোর্টও এই ঘটনার পর চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিল।
হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক নির্দেশে অনেকেই মনে করছেন, ঘটনার পিছনে যদি কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থেকে থাকে, তাহলে তা উদঘাটনের পথ আরও প্রশস্ত হল। সিবিআই এখন কত দ্রুত ও কত গভীরে তদন্ত নামায়, তার উপরই নির্ভর করছে আসল সত্য বেরিয়ে আসা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

