Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সায়েন্স, কমার্স না আর্টস—তোমার জন্য কোনটা সেরা

0 75,698,802

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক। আর এই পরীক্ষার পরই প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জীবন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়ায় । এই সময়েই নিতে হয় ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত—কোন স্ট্রিম বেছে নেওয়া হবে? সায়েন্স, কমার্স না আর্টস— এই তিনটি পথের মধ্যে সঠিক নির্বাচন অনেক সময়ই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার, বন্ধু, সমাজ—সব দিক থেকে নানা মতামত আসতে থাকে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই মনের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্নের পাশাপাশি হাজার চিন্তা ভিড় করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতা, আগ্রহ এবং লক্ষ্যকে ভিত্তি করে।

আগ্রহই হোক প্রথম গাইড

নিজের মনের কথা শোনাটাই প্রথম পদক্ষেপ। কোন বিষয় পড়তে ভালোবাস? কোন বিষয় পড়তে বসলে সময়ের হিসাব ভুলে যাও? সেই বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যদি গণিত, পদার্থবিদ্যা বা জীববিজ্ঞান তোমাকে আকর্ষণ করে, তাহলে সায়েন্স তোমার জন্য সঠিক হতে পারে। আবার যদি হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসা বা অর্থনীতিতে আগ্রহ থাকে, তাহলে কমার্স একটি ভালো বিকল্প। আর ইতিহাস, ভূগোল, ভাষা বা সমাজবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থাকলে নিঃসন্দেহে আর্টস গ্রুপ বেছে নেওয়া একেবারেই যুক্তিযুক্ত।

শুধু নম্বরের ভিত্তিতে নয়, বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ যে বিষয় ভালো লাগে না, সেটি দীর্ঘদিন পড়া কঠিন হয়ে যায়। পরে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় ছাত্রছাত্রীরা ওই বিষয় ছেড়ে পুনরায় অন্য কোনও বিষয় নির্বাচন করছে।

দক্ষতা ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

আগ্রহের পাশাপাশি নিজের দক্ষতাও মূল্যায়ন করা জরুরি। কোন বিষয়গুলোতে তুমি ভালো নম্বর পাচ্ছ? কোথায় তুমি স্বচ্ছন্দ? উদাহরণস্বরূপ, যদি অঙ্কে তোমার দখল ভালো হয়, তাহলে সায়েন্স বা কমার্স —দুটো পথ তোমার জন্য খোলা। আবার যদি লেখালেখি, বিশ্লেষণ বা ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে, তাহলে আর্টস তোমার জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে।

নিজের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়।

লক্ষ্য নির্ধারণ: ভবিষ্যতের দিশা

ভবিষ্যতে কী হতে চাও—এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী হতে চাইলে সায়েন্স অপরিহার্য।

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ব্যাঙ্কার বা ব্যবসায়ী হতে চাইলে কমার্স।

শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সমাজকর্মী হতে চাইলে আর্টস।

তবে মনে রাখতে হবে, অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রিম পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। তাই একেবারে চূড়ান্ত ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই, কিন্তু একটি প্রাথমিক লক্ষ্য থাকলে পথচলা সহজ হয়।

পরামর্শ নাও, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিজের

শিক্ষক, অভিভাবক বা অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ অবশ্যই নিও। তাঁরা তোমার পড়াশোনা ও দক্ষতা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি তোমার হওয়া উচিত। অন্যের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে অনুশোচনা হতে পারে।

সামাজিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসো

আমাদের সমাজে এখনও একটি প্রচলিত ধারণা আছে— সায়েন্স নিলে তবেই ভালো ছাত্র বা ছাত্রী, আর আর্টস বা কমার্স নিলে যেন কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু বেছে নেওয়া হচ্ছে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বর্তমান সময়ে প্রতিটি স্ট্রিমেই অসংখ্য কেরিয়ারের সুযোগ রয়েছে।

একজন ভালো সাংবাদিক, ডিজাইনার, অর্থনীতিবিদ বা শিক্ষক হওয়াও সমান সম্মানের। তাই কে কী বলবে তা ভেবে নয়, বরং আমি কী চাই তা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বেশি উপযোগী।

তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নাও

স্ট্রিম বেছে নেওয়ার আগে প্রতিটি স্ট্রিম সম্পর্কে ভালোভাবে জানো।

কোন কোন বিষয় পড়ানো হয়।

ভবিষ্যতে কী কী কোর্স করা যায়।

কোন কোন পেশায় যাওয়া সম্ভব।

ইন্টারনেট, বই বা কেরিয়ার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময়ই বেশি কার্যকর।

মানসিক প্রস্তুতি ও বাস্তবতা

প্রতিটি স্ট্রিমের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সায়েন্স তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ও পরিশ্রম দাবি করে। কমার্সে নিয়মিত প্র্যাকটিস দরকার, আর আর্টস এ গভীরভাবে পড়ে বোঝার ক্ষমতা জরুরি।

তাই নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের ক্ষমতা বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তুমি কতটা চাপ সামলাতে পারবে, সেটাও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

বিকল্প পথের সম্ভাবনা

অনেকেই ভাবে, একবার স্ট্রিম বেছে নিলে আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে এমন নয়। আজকের দিনে বিভিন্ন কোর্স ও স্কিলের মাধ্যমে স্ট্রিম বদলের সুযোগ রয়েছে। যেমন, আর্টস নিয়ে পড়েও অনেকেই পরে ম্যানেজমেন্ট বা আইটি ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে।

তাই ভুল সিদ্ধান্তের ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

ক্লাস টেন-এর পর স্ট্রিম বেছে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এটি জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নয়। এটি কেবল তোমার ভবিষ্যতের পথচলার শুরু। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিজের আগ্রহ, দক্ষতা, লক্ষ্য এবং বাস্তবতা—এই চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় কথা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। কারণ শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করে আপনার পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং মানসিকতার ওপর—শুধু স্ট্রিমের ওপর নয়। সঠিক সিদ্ধান্ত তখনই হয়, যখন সেটি তোমার নিজের স্বপ্নের সঙ্গে মিল খায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper