Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বাহিনী সরাসরি মাঠে, কমিশনের বার্তা

0 675,327

ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন । স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটের কাজে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘বসিয়ে রাখা’ চলবে না, সরাসরি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পাঠাতে হবে। সোমবার নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা, স্পর্শকাতর বুথ ও অশান্তির আশঙ্কা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। অতীতে ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশনের কড়া অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কমিশনের কর্তারা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন,“ভোটের কাজে এসে বাহিনী কি বসে থাকবে?” কমিশনের নির্দেশ, বাহিনীকে রুট মার্চ, এরিয়া ডমিনেশন, স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ ও টহলদারির মতো কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে।

তবে ঠিক কোন জেলায়, কত কোম্পানি মোতায়েন করা হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, অতীতের রিপোর্ট, অশান্তির ইতিহাস ও বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘সংবেদনশীল’ এলাকাগুলিতে বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচল ও কার্যকলাপ নজরদারিতে রাখতে প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস বসানো হবে। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশ, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক দায়িত্বে থাকবে রাজ্য পুলিশ, তবে বাহিনীর মোতায়েন ও দায়িত্ব নির্ধারণে কমিশনের ভূমিকা স্পষ্ট থাকবে।

বৈঠকের পর রাজ্য পুলিশের ডিজি সাংবাদিকদের বলেন, “খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবেই হবে।”

নির্বাচনের আগে রাজ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দফায় বাহিনী আসবে।

১ মার্চ আসছে ২৪০ কোম্পানি, ১০ মার্চ আসবে আরও ২৪০ কোম্পানি। এই বাহিনীর মধ্যে থাকছে—

২৩০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ১২০ কোম্পানি বিএসএফ, ৩৭ কোম্পানি সিআইএসএফ, ৪৭ কোম্পানি আইটিবিপি, ৪৬ কোম্পানি এসএসবি। রাজ্যে এত বড় সংখ্যায় বাহিনী মোতায়েন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।

বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরব বিজেপি। দলের নেতা সজল ঘোষ বলেন, “কমিশনের যদি এখনও চোখ না ফোটে, তাহলে আর কোনওদিনই ফুটবে না। রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই মানছে না, কমিশনের কথা কীভাবে মানবে? কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব যদি রাজ্য সরকারের হাতে থাকে, তাহলে বাহিনী শুধু দর্শনীয় স্থান দেখবে, কাজ হবে না। বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে রেখেই কাজ করাতে হবে।”

বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বাহিনীর কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, বাহিনী এনে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। দলের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন কমিশনকে কেন নিরপেক্ষ রাখা হল না? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে হবেন, তা কেন মোদী ও অমিত শাহ মিলে ঠিক করবেন? গোড়াতেই গলদ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য এত আধাসামরিক বাহিনী আনা হচ্ছে। এখন সৈন্য নামিয়ে মানুষকে সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।”

রাজ্যে ভোট যত ঘনাচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা যে এবার বিশেষভাবে নজরে থাকবে, তা স্পষ্ট। কমিশনের কড়া বার্তার পর প্রশ্ন, মাঠে নেমে বাহিনী কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেয়, এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়।

ভোটের আগে তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন চরমে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper