AB Live News
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় ধাক্কা

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফের বড়সড় সংখ্যা সামনে এল। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পর আরও ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৬৪ লক্ষেরও বেশি। আর এখানেই শেষ নয়—২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নথি যাচাই প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
১ কোটি ২৩ লক্ষের শুনানি, চলছে যাচাই
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হয়েছেন বা নথি জমা দিয়েছেন। তাঁদের তথ্য যাচাই (ভেরিফিকেশন) প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি মিলিয়ে দেখছেন, কারও নাম দ্বৈত তালিকাভুক্ত কি না, কেউ মৃত হয়েও তালিকায় রয়েছেন কি না, বা কেউ অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন কি না—এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ভারত নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা হতে হবে একেবারে নির্ভুল ও স্বচ্ছ। পাঁচ বছর পরেও যদি বিদেশি নাগরিক বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যায়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কেন এত নাম বাদ?
প্রশাসনিক মহলের দাবি, এই বাদ পড়া নামের বড় অংশই ‘ডুপ্লিকেট’ বা পুনরাবৃত্ত। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, একজন ভোটারের নাম একাধিক বুথে রয়েছে। আবার অনেকে অন্য রাজ্যে বা জেলায় স্থায়ীভাবে চলে গিয়েছেন, অথচ পুরনো ঠিকানায় নাম রয়ে গিয়েছে। মৃত ব্যক্তির নামও বিপুল সংখ্যায় ধরা পড়েছে।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই সংশোধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ভোটারদেরও নাম বাদ পড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কয়েকটি দল। তারা দাবি করেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কিছু নাম চিহ্নিত করা হচ্ছে।
প্রশাসনের বার্তা: আতঙ্ক নয়, সুযোগ আছে
নির্বাচনী আধিকারিকদের বক্তব্য, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপত্তি জানাতে পারবেন। সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। ব্লক অফিস বা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জানিয়ে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে।
২১ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ দিন
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নথি যাচাই চলবে। তার পরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা। ফলে এই সময়ের মধ্যে আরও কিছু নাম বাদ পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক সূত্রে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই বিশাল সংশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটার তালিকা যত নির্ভুল হবে, ততই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে—এটাই কমিশনের অবস্থান। তবে একই সঙ্গে প্রকৃত ভোটার যাতে কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উঠেছে সঙ্গত প্রশ্ন, ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ—এ কি কেবল প্রযুক্তিগত সংশোধন, নাকি রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন অধ্যায়? ২১ ফেব্রুয়ারির পরই মিলবে স্পষ্ট ছবি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

