AB Live News
সুপ্রিম নির্দেশে স্বস্তি: ভোটার তালিকায় নাম তোলার শেষ সুযোগ আনম্যাপড ভোটার বিতর্ক, এবার সরেজমিনে তদন্তে কমিশন

ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি এবং ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণে এবার চূড়ান্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক বাদানুবাদের পর, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশনায় ভোটার তালিকা সংশোধনে এক বিশেষ ‘ফিল্ড এনকোয়ারি’ বা সরেজমিনে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত সেইসব ভোটারদের জন্য শেষ সুযোগ, যাঁদের নাগরিকত্ব বা ভোটার তথ্য নিয়ে এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল।
ভোটার তালিকায় এসআইআর সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য আগেই কড়া নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, তালিকায় থাকা যেকোনও অসঙ্গতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রতিটি তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে হবে। আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, শুনানিতে আসা নাগরিকদের কাছ থেকে কোনও নথি নেওয়া হলে তার বিনিময়ে অবশ্যই বৈধ রসিদ প্রদান করতে হবে, যাতে পরবর্তীকালে হয়রানির কোনও সুযোগ না থাকে।
প্রাথমিক তথ্যে কমিশন জানিয়েছিল, প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তবে তথ্য যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ইসি সূত্রে খবর, এই ৯৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই করতেই এখন বিশেষ ফরম্যাট ও ফিল্ড এনকোয়ারির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক পারদ ও তৃণমূলের সরব উপস্থিতি
ভোটারদের এই গণ-শুনানিতে ডাকার বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক কোন যুক্তিতে এবং কিসের ভিত্তিতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁরা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের পক্ষে সওয়াল করেন। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এটি ভোটারদের অধিকার হরণের একটি সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা। এই চাপের মুখেই সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দেয়।
কমিশন জানিয়েছে, এখন থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটারের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হবে:
পাঁচজন স্থানীয় বৈধ ভোটারের স্বীকৃতি।
সংশ্লিষ্ট বিএলও (বুধ লেভেল অফিসার)-এর স্বাক্ষর।
সুপারভাইজার ও ইআরও-র চূড়ান্ত অনুমোদন।
এই বহুমুখী যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল একজন ‘আনম্যাপড’ ভোটার তালিকায় ঠাঁই পাবেন।
এতদিন যে বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা ছিল, তা নিরসনে কমিশন এখন অনেক বেশি নমনীয় ও স্বচ্ছ। কমিশন জানিয়েছে, যারা প্রকৃত নাগরিক কিন্তু যান্ত্রিক বা পদ্ধতিগত কারণে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি, তাঁদের পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। তবে জালিয়াতি রুখতে ফিল্ড এনকোয়ারির ক্ষেত্রে কোনও শিথিলতা দেখানো হবে না।
নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকার এই শুদ্ধিকরণ অভিযান শেষ পর্যন্ত কতটা নিষ্কণ্টক হয় এবং ৯৪ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

