AB Live News
অশোকনগরে প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা ও তাঁর বাবার রহস্যমৃত্যু
শিবনাথ দাস : নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সঞ্জয় রাউতের ঝুলন্ত দেহ। একই সঙ্গে ওই একই ঘর থেকে তাঁর বৃদ্ধ পিতা কমল রাউতকে অচৈতন্য ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রৌঢ়কে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন। একই ঘর থেকে বাবা ও ছেলের এমন মর্মান্তিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সঞ্জয় রাউতের বয়স উনপঞ্চাশ বছর এবং তাঁর বাবা কমল রাউতের বয়স প্রায় সত্তর বছর। ঘটনাটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার তেরো নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন সঞ্জয় ও তাঁর বাবা কমল রাউত। শনিবার সকালবেলা দীর্ঘ সময় তাঁদের ঘরের দরজা বন্ধ থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। বহু ডাকাডাকি করার পরেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া-শব্দ না মেলায় পরিবারের লোকজন দরজা খোলেন। ভিতরে ঢুকতেই সকলে স্তম্ভিত হয়ে যান। দেখা যায়, ঘরের সিলিং থেকে ঝুলছে সঞ্জয়ের নিথর দেহ, আর মেঝের উপরেই অচৈতন্য অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা। তাঁদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় অশোকনগর থানায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, সঞ্জয় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার আগে বা পরে তাঁর বাবা কমলবাবু অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে থাকতে পারেন।এলাকার রাজনীতিতে সঞ্জয় রাউত যথেষ্ট পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি এক সময় অশোকনগর শহর এলাকায় যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সামলেছিলেন। এলাকার রাজনীতিতে তিনি তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে প্রত্যক্ষ রাজনীতির পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর ব্যবসায় ব্যাপক মন্দা চলছিল এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই কারণে সঞ্জয়বাবু দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ব্যবসায়িক লোকসান ও বিপুল দেনার চাপ থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত কি না, নাকি পারিবারিক বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও জটিলতা এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে কাজ করেছে, তা জানতে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বাবা-ছেলের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

