AB Live News
বিরোধীদের নোংরা রাজনীতি খতম, হাসিরানির প্রার্থিপদ বহাল
শিবনাথ দাস : আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সাজানো অভিযোগ ধূলিসাৎ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাস বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা বাতিলের আর্জি জানিয়ে দায়ের করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিট পিটিশনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। বিরোধীরা নির্বাচন শুরুর আগেই আইনি কারসাজি করে বিজেপি প্রার্থীকে মাঠের বাইরে পাঠাতে যে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল, আদালতের এই চড়ুইভাতি রায়ে তা পুরোপুরি ভেস্তে গেল। ফলে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে গেরুয়া শিবিরের প্রচার এখন আরও আগ্রাসী ও অপ্রতিরোধ্য রূপ নিতে চলেছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা তথা বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হাসিরানি দেবীর হলফনামায় বয়সের সামান্য গরমিলকে হাতিয়ার করেছিল বিরোধীরা। স্থানীয় এক কংগ্রেস নেতা তৃণমূলের মদতে আদালতে মামলা ঠুকে দাবি করেন, হলফনামায় বিজেপি প্রার্থী নিজের জন্মসাল ১৯৬৬ এবং বয়স ৬০ বছর উল্লেখ করেছেন, অথচ শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে মাধ্যমিক পাসের সাল হিসেবে ১৯৬৫ সাল দেখানো হয়েছে। জন্মগ্রহণের এক বছর আগেই কীভাবে মাধ্যমিক পাস সম্ভব, এই চরম হাস্যকর ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পুরো প্রার্থিপদ বাতিলের দাবি নিয়ে আদালতের দরবারে পৌঁছান মামলাকারী। উদ্দেশ্য ছিল আইনি জট তৈরি করে প্রচার ব্যাহত করা।আদালতে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবে বিজেপি প্রার্থীর আইনজীবী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বিরোধীদের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, টাইপিংয়ের এই অসাবধানতাবশত ভুল সম্পূর্ণভাবে একটি করণিক অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি মাত্র। এর মধ্যে কোনও প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য বা তথ্য গোপনের চেষ্টা ছিল না। আইনজীবী আরও যুক্তি দেন যে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনির নির্দিষ্ট সময়সীমা ইতিমধ্যেই নির্বিঘ্নে অতিক্রান্ত হয়েছে। সেই বিধিসম্মত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর কোনও তৃতীয় পক্ষ হঠাৎ এসে এ ভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হলেও বিচারপতি রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন। মঙ্গলবার সমস্ত নথিপত্র এবং নির্বাচনী আইনের ধারাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মামলাটি খারিজের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। নন্দীগ্রামের মাটিতে আবেগ ও সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি যখন প্রয়াত কর্মীর বৃদ্ধা মাকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নেমেছে, তখন বিরোধীদের এই আইনি আক্রমণ বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে এল। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে বিরোধীদের সস্তা রাজনীতির মুখোশ যেমন খসে পড়ল, তেমনই উপনির্বাচনের মহারণে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

