AB Live News
ইউপিআই লেনদেনে অতিরিক্ত মাশুল, ক্ষুব্ধ পেট্রোল পাম্প ডিলাররা
ডিজিটাল লেনদেনের পরিমণ্ডলে বড়সড় ধাক্কা নেমে এল সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর। এবার থেকে জ্বালানি কেনাকাটায় ইউপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা আর পুরোপুরি বিনামূল্যে থাকছে না। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা সংক্ষেপে ‘এমডিআর’ মাশুল কার্যকর করার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে, পেট্রোল বা ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকার বেশি লেনদেন করলেই প্রতিবারে ডিলারদের পাঁচ টাকা করে নির্দিষ্ট মাশুল দিতে হবে। এই ঘোষণার পরেই দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হল। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে এবার ডিজিটাল মাধ্যমের পথ পরিহার করে ফের কেবল নগদেই লেনদেন চালু করার কড়া হুঁশিয়ারি দিল ডিলারদের জাতীয় সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জ্বালানি বিক্রির ব্যবসায় ডিলারদের লাভের মার্জিন বা মুনাফা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্বল্প। ফলে গ্রাহকের প্রতি লেনদেনে যদি পাম্প মালিকদের ওপর পাঁচ টাকা করে বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপানো হয়, তবে সেই ক্ষতি বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ডিজিটাল ব্যবস্থায় গতি আনতে অতীতে যে লেনদেন সম্পূর্ণ মাশুলহীনভাবে পরিচালিত হত, এখন সেখানে নতুন করে অতিরিক্ত আর্থিক দায় চাপানো অনুচিত। অবিলম্বে জ্বালানি ক্ষেত্রকে এই নতুন মাশুলের আওতা থেকে মুক্ত রাখা না হলে, পাম্পগুলিতে বড় অঙ্কের ডিজিটাল পেমেন্ট নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে শুধু নগদেই জ্বালানি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা হতে পারে। ডিলারদের এমন মনোভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে অভ্যস্ত সাধারণ গাড়ি ও বাইক চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি দ্রুত নতুন বিতর্কের রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতাসীন দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দলের আসনে উপবিষ্ট। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সামনে রেখে ময়দানে নেমেছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া আক্রমণ, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে ব্যাঙ্কিং নির্ভর করে তুলে এখন ঘুরপথে তাদের ও ছোট ব্যবসায়ীদের পকেট কাটার আয়োজন করা হল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির ওপর নতুন করে পরোক্ষ মাশুল চাপানোর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলারও বার্তা দিয়েছে তারা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধীদের এই প্রচারকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শাসক নেতৃত্বের দাবি, জাতীয় স্তরে আর্থিক লেনদেন কাঠামোকে সুশৃঙ্খল ও দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতেই এই ব্যবস্থাপনা আনা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেছে, সাধারণ ও ক্ষুদ্র ক্রেতাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে; কারণ দুই হাজার টাকার কম লেনদেনে কোনও রকম মাশুল কার্যকর হবে না। এছাড়া ডিলারদের উদ্বেগ ও অসন্তোষের বিষয়গুলিও কেন্দ্রীয় স্তর থেকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে শাসক শিবির আশ্বস্ত করেছে।বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, পাম্পগুলিতে ফের নগদ লেনদেন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট এবং খুচরো পয়সার সঙ্কটকে ঘিরে নিত্যদিনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিগত কয়েক বছরে দেশজুড়ে নগদহীন অর্থনীতি গড়ে তোলার যে সাফল্য এসেছিল, তাও বড় ধরনের অন্তরায়ের মুখে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ডিলারদের দাবি মেনে কোনও বিশেষ ছাড় ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

