Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

দেবরাজের দুর্নীতির টাকা যেত অভিষেকের সংস্থায়, আদালতে চার্জশিট

0 437,945

তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের মাধ্যমে তোলা কোটি কোটি টাকা সরাসরি স্থানান্তরিত হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত সংস্থায়। বুধবার বারাসত আদালতে পেশ করা বিস্ফোরক তৃতীয় চার্জশিটে এমনই গুরুতর দাবি করল বাগুইআটি থানার পুলিশ। যুব তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি ১০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর অ্যাকাউন্টে। ধৃত যুব তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তদন্তকারীরা। আদালতে জমা পড়া দেড় হাজারেরও বেশি পাতার চার্জশিটে রয়েছে প্রচুর ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটি, কেষ্টপুর এবং রাজারহাট চত্বরে প্রমোটারদের ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি, হুমকি, জোর করে জমি দখল এবং সিন্ডিকেট ব্যবসার বিপুল অঙ্কের টাকা দফায় দফায় আসত। সেই অর্থ বিভিন্ন হাত ঘুরে জমা পড়ত খোদ রাজ্য যুব তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই যুব তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকেই সরাসরি ১০ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হত ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তদন্তে উঠে এসেছে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হস্তান্তর হয়েছিল, তার অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী বা সই করার অধিকারী স্বয়ং দেবরাজ চক্রবর্তী। ফলে এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।বারাসত আদালতে জমা দেওয়া নথিপত্রে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। উদ্ধার হওয়া ব্যাঙ্ক নথি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সামগ্রিক হিসাব মিলিয়ে এই আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। শুধু তাই নয়, গত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে মুখে বিভিন্ন বেনামি মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি সরিয়ে ফেলার গুরুতর প্রমাণও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই চক্রের শিকড় আরও কত দূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই মামলায় দেবরাজের স্ত্রী অদিতি মুন্সির ভূমিকা নিয়েও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তা নিয়ে পৃথক তদন্ত চলছে। আদালতে পেশ করা এই চার্জশিট প্রসঙ্গে বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির কালো টাকা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে সম্পত্তি সরানোর একাধিক প্রমাণ তদন্তে স্পষ্ট। এই আর্থিক লেনদেনের গভীরে পৌঁছতে এবং অন্য প্রভাবশালী অভিযুক্তদের ভূমিকা প্রকাশ্যে আনতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় তদন্তের পরিধি খোলা রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।তোলাবাজি এবং সংগঠিত অপরাধ দমন আইনে বাগুইআটি থানা ইতিপূর্বে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে ধাপে ধাপে দুটি চার্জশিট জমা পড়েছিল। তবে বুধবার জমা পড়া এই তৃতীয় চার্জশিটটি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক সময় দলের ক্ষমতাসীন বৃত্তের অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতার ব্যাঙ্ক লেনদেনের সরাসরি যোগ যদি শীর্ষ নেতৃত্বের সংস্থায় পৌঁছনোর প্রমাণ আদালত গ্রাহ্য করে, তবে আসন্ন দিনগুলিতে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি বিরোধী শিবিরের ওপর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। পুরো বিষয়টির ওপর এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper