AB Live News
সাড়ে চার হাজার পেরোল ডেঙ্গি, কলকাতাতেও বাড়ছে সংক্রমণের গতি
শ্রীতমা ব্যানার্জী :বর্ষার মেঘ নামলেই বাংলার ঘরে ঘরে যে আতঙ্ক নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে, তার নাম ডেঙ্গি। বৃষ্টির জল, জমে থাকা আবর্জনা আর মশার বংশবিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফের বাড়ছে ডেঙ্গির দাপট। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যানে এবার সেই ছবিই আরও স্পষ্ট। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, চলতি বছরে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমণের নিরিখে জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। আর তার পরেই রয়েছে কলকাতা। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭০, কলকাতায় ৪০২। গত সাত দিনে কলকাতাতেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ জন। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বাড়ছে সংক্রমণ। উত্তর ২৪ পরগনায় আক্রান্ত ৩৪৬ জন, মালদায় ৩৩১, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২৪ এবং নদিয়ায় ৩১৬ জন। হুগলিতে আক্রান্ত ২৯৩ জন, হাওড়ায় ২৭৬ জন। পূর্ব বর্ধমানে ২৩৩ এবং পশ্চিম বর্ধমানে ১৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান। মুর্শিদাবাদের ছবিটাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ৮৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ জন। নওদা ব্লকের পাটিকাবাড়ি গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত দুই বাসিন্দার রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়ার পর এলাকায় শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি স্প্রে এবং সচেতনতা প্রচার। ডেঙ্গির এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ অবশ্য হঠাৎ তৈরি হয়নি। স্বাস্থ্য দফতরের হিসাব বলছে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে আক্রান্ত ছিলেন ৭৭০ জন। ৩১ জুলাই সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ১,৯৪৬। ৩১ অগাস্টে তা পৌঁছে যায় ৩,৯৬৬-তে। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার পেরিয়েছে। শহর কলকাতার জন্য তাই এই মুহূর্তে সতর্কতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যে কোনও জায়গায় জল জমে থাকলেই তা হয়ে উঠতে পারে এডিস মশার আঁতুড়ঘর। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও তাই বাড়তি সতর্ক হওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে অভিযান জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদেরও মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পিছনে রয়েছে একটি পরিবার, একজন রোগী, একটি উদ্বিগ্ন রাত। তাই বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা নয়, এখন থেকেই জমা জল সরানো এবং মশার বংশবিস্তার রুখতেই হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

