AB Live News
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চরম চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের রামপুরহাটে। মঙ্গলবার দুপুরে রামপুরহাট পুরসভা এলাকার নিজ বাসভবন থেকেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক দাবি, তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অতীত ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আলোড়ন ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়াতে হয়েছিল বৃষ্টির। তিনি স্কুল শিক্ষা দফতরের গ্রুপ-সি পদে কর্মরত ছিলেন। চাকরি বাতিলের পর থেকেই তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত চার-পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত তাঁর মানসিক চিকিৎসা চলছিল। পারিবারিক সূত্রের দাবি, জীবিকা হারানোর চরম আঘাত তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না।
চাকরি যাওয়ার যন্ত্রণার পাশাপাশি বৃষ্টির ব্যক্তিগত জীবনেও নেমে এসেছিল ঘোর বিপর্যয়। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর বৈবাহিক জীবনে তীব্র কলহ চলছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি সেই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার জটিলতা বৃদ্ধির ফলে তাঁর মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। জীবিকা হারানোর অনিশ্চয়তা এবং দাম্পত্য জীবনের ভাঙন—এই জোড়া সঙ্কটে তিনি ক্রমশ নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলেছিলেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে বিরোধী শিবিরের অন্দরে নানা স্তরে দোলাচল শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত আরও গতি পাওয়ায় এবং পুরোনো প্রভাব কমে যাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। বৃষ্টির ক্ষেত্রেও সেই সামাজিক ও মানসিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
মঙ্গলবার দুপুরে দীর্ঘক্ষণ নিজের ঘর থেকে বের না হওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় ঘরের দরজা খুলে দেখা যায় সিলিং ফ্যান থেকে তাঁর দেহ ঝুলছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামপুরহাট থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও পুলিশ স্পষ্ট করেনি। এটি নিছকই অবসাদজনিত আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও প্রত্যক্ষ প্ররোচনা বা কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা জেলা জুড়েই শোক ও রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

