AB Live News
আজ আকাশে দেখুন ব্লু মুন
আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক বিরল ও স্মরণীয় সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আকাশে দেখা দিল বিরল ‘নীল চাঁদ’। একই সঙ্গে এই পূর্ণিমার চাঁদ ‘মাইক্রোমুন’ হিসেবেও ধরা দিল, যা ঘটনাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ঘটনা প্রতিদিনের নয়, এমনকি প্রতি বছরও নয়। বহু মানুষের কৌতূহল, আগ্রহ এবং বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল আজকের পূর্ণচন্দ্র।
ইংরেজি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে, যার অর্থ অত্যন্ত বিরল কোনও ঘটনা। সেই প্রবাদ থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘নীল চাঁদ’ শব্দবন্ধটি বিশেষ পরিচিত। তবে নামের সঙ্গে নীল রঙ জড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চাঁদ বাস্তবে নীল রঙের হয়ে যায় না। এটি মূলত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিভাষা, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংঘটিত পূর্ণিমাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণভাবে চাঁদের এক পূর্ণ আবর্তনচক্র সম্পূর্ণ হতে প্রায় উনত্রিশ দিন অর্ধেক সময় লাগে। ফলে কোনও মাসের একেবারে শুরুতে যদি পূর্ণিমা ঘটে, তবে একই মাসের শেষ দিকে আবার একটি পূর্ণিমা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই দ্বিতীয় পূর্ণিমাকেই বলা হয় ‘নীল চাঁদ’। এই কারণেই ঘটনাটি বিরল। কারণ ক্যালেন্ডারের মাস এবং চাঁদের আবর্তনচক্রের মধ্যে সময়ের এই বিশেষ সমাপতন ঘন ঘন ঘটে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়ে প্রতি দুই থেকে তিন বছর অন্তর একবার এমন ঘটনা দেখা যায়। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগীদের কাছে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ আজ সন্ধ্যা থেকে আকাশের দিকে চোখ রেখে অপেক্ষা করেছেন এই বিরল দৃশ্যের জন্য।
তবে এবারের নীল চাঁদকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে ‘মাইক্রোমুন’-এর উপস্থিতি। যখন পূর্ণিমার চাঁদ পৃথিবী থেকে তার কক্ষপথের তুলনামূলক দূরবর্তী অবস্থানে থাকে, তখন তাকে মাইক্রোমুন বলা হয়। এর ফলে চাঁদকে স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় কিছুটা ছোট এবং সামান্য কম উজ্জ্বল বলে মনে হয়। যদিও সাধারণ দর্শকের চোখে এই পার্থক্য খুব সহজে ধরা পড়ে না, তবু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একাংশ জানিয়েছেন, একই সঙ্গে নীল চাঁদ এবং মাইক্রোমুনের উপস্থিতি বিরল সমাপতনের উদাহরণ। এর ফলে এবারের পূর্ণিমা কেবল একটি সাধারণ চন্দ্রদর্শন নয়, বরং মহাকাশবিজ্ঞানের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের নানা দেশের মানমন্দির, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠনগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্যবেক্ষণের আয়োজন করেছে।
ভারত-সহ সমগ্র এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আজ এই বিরল পূর্ণচন্দ্র দৃশ্যমান হয়েছে। সন্ধ্যার পর আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব হয়েছে। দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের নানা বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
চাঁদকে ‘নীল’ দেখানোর প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশেষ কিছু বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিতে সত্যিই চাঁদের রঙে নীলচে আভা দেখা যেতে পারে। বৃহৎ অগ্নিকাণ্ড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণার আধিক্যের ফলে আলোর বিচ্ছুরণে পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিস্থিতিতে কখনও কখনও চাঁদকে নীলাভ দেখাতে পারে। তবে আজকের নীল চাঁদের সঙ্গে সেই রঙগত পরিবর্তনের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। এটি মূলত সময়ের বিশেষ সমাপতনের ফল।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের তোলা চাঁদের ছবি ও ভিডিও ভাগ করে নিয়েছেন। কোথাও নগরীর আকাশরেখার উপরে, কোথাও পাহাড়ের পটভূমিতে, আবার কোথাও সমুদ্রতটের ওপরে উজ্জ্বল পূর্ণচন্দ্রের ছবি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশের বিস্ময়কর ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নীল চাঁদের মতো বিরল ঘটনাগুলি মানুষকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। পৃথিবীর বাইরে বিস্তৃত অসীম মহাকাশের প্রতি কৌতূহল জাগিয়ে তোলে এবং বিজ্ঞানকে আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দেয়।
আজকের এই বিরল চন্দ্রদর্শনের পর আবার এমন সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক বছর। সেই কারণেই আকাশপ্রেমীদের কাছে আজকের রাত বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকল। পূর্ণিমার আলোয় ভেসে যাওয়া আকাশ যেন মনে করিয়ে দিল, মহাবিশ্বের বিস্ময়ের ভাণ্ডারে এখনও অসংখ্য অজানা অধ্যায় লুকিয়ে রয়েছে, যা মানুষকে বারবার মুগ্ধ করে, বিস্মিত করে এবং নতুন করে আকাশের দিকে তাকাতে বাধ্য করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

