Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

হুগলিতে গ্রেফতার জাহাঙ্গির

0 659,453,355

 দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে ‘জাহাঙ্গির’ নামটি গত কয়েক মাসে একাধিকবার শিরোনামে উঠে এসেছে। সেই আবহের মধ্যেই শনিবার গভীর রাতে হুগলির পান্ডুয়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হলেন আরও এক জাহাঙ্গির। যদিও তিনি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গির খান নন। ধৃতের নাম মহম্মদ জাহাঙ্গির। তাঁর বাড়ি পান্ডুয়ার পশ্চিম বালিহাট্টা এলাকায়। পুলিশের দাবি, ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর ছেলেসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি দেশি বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ, লোহার রড, সাবল এবং চপার। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে পান্ডুয়া থানার অন্তর্গত নিয়ালার বোসো এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি জড়ো হয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর আসে। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত তৎপর হয় পান্ডুয়া থানার পুলিশ। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং রাতের অন্ধকারে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, সেখানে পৌঁছতেই কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। তবে অভিযানে মহম্মদ জাহাঙ্গির, তাঁর ছেলে মহম্মদ সেলিম, শেখ ভোম্বল, শেখ রাজু এবং শেখ সাদ্দামকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়। আরও কয়েকজন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধৃতরা কোনও বড় ধরনের অপরাধমূলক পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিল। জেরার মুখে তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। যদিও সেই স্বীকারোক্তির সত্যতা আদালতের বিচারে যাচাই হবে, তবু ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। কারণ, অভিযানের সময় যে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে, তা থেকে পুলিশের সন্দেহ আরও জোরদার হয়েছে।

 

তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, ধৃতদের কাছ থেকে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একটি ধারালো চপার, একটি লোহার রড এবং একটি সাবল। পুলিশের মতে, এ ধরনের সরঞ্জাম সাধারণত সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। আগ্নেয়াস্ত্রটি কার্যক্ষম কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশের দাবি, ধৃত মহম্মদ জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। ফলে এই গ্রেফতারিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে তাঁর অতীত কার্যকলাপ এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, এলাকায় সক্রিয় দুষ্কৃতীচক্রের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে এই গ্রেফতারের সূত্র ধরে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় রাতে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়েছিল। যদিও এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি, তবু পুলিশের অভিযানের পর বহু মানুষের মধ্যেই স্বস্তির অনুভূতি দেখা গিয়েছে। তাঁদের মতে, সময়মতো পুলিশ পদক্ষেপ না করলে বড় ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটতে পারত।

 

পুলিশ প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। গোটা ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা জানার জন্য ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা পালিয়ে গিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধৃতদের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সাম্প্রতিক গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

জেলার পুলিশ মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন থানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পান্ডুয়ার এই অভিযান সেই ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই অংশ।

 

ঘটনার পর রবিবার ধৃত পাঁচজনকে চুঁচুড়া আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাদের হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

 

একদিকে রাজনৈতিক মহলে ‘জাহাঙ্গির’ নাম ঘিরে চলা আলোচনার আবহ, অন্যদিকে হুগলিতে একই নামে এক অভিযুক্তের গ্রেফতারি— এই দুই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, ধৃত মহম্মদ জাহাঙ্গিরের সঙ্গে ফলতা কেন্দ্রের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গির খানের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, ধৃতদের সম্ভাব্য অপরাধচক্রের যোগসূত্র, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পরিকল্পিত অপরাধের লক্ষ্য কী ছিল— এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন জোর দিয়েছে পুলিশ। জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই গ্রেফতারিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper