Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত মধ্যপ্রদেশ সরকার

0 609,321,624

 ‘অনেক হয়েছে, এবার আদালতের নির্দেশ পালন করুন’—কর্নেল সোফিয়া কুরেশি সংক্রান্ত মামলায় মধ্যপ্রদেশ সরকারকে এই ভাষাতেই তীব্র ভর্ৎসনা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রাজ্যের মন্ত্রী কুনওয়ার বিজয় শাহের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের অনুমতি দিতে অযথা বিলম্ব করার অভিযোগে শুক্রবার রাজ্য সরকারকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) যখন অভিযুক্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন বা মামলা চালানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে, তখন সরকারের উচিত ছিল অন্তত দুই সপ্তাহ আগেই সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। এ দিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের কড়া মেজাজ দেখে স্পষ্ট যে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের ঢিলেমি মোটেও ভালো চোখে দেখছে না শীর্ষ আদালত।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানের সময়। গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সীমান্তে যে কড়া সামরিক জবাব দিয়েছিল ভারত, তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’। সেই সময় সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। কিন্তু তৎকালীন মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী বিজয় শাহ অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেছিলেন, “যারা আমাদের কন্যাদের বিধবা করেছে, তাদের শিক্ষা দিতে আমরা তাদেরই এক বোনকে পাঠিয়েছি।” মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। একজন সেনাকর্তাকে নিয়ে এমন সাম্প্রদায়িক ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে শাহকে মন্ত্রিত্ব থেকে বরখাস্ত করার দাবি ওঠে।

এ দিনের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মন্ত্রীর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে দাবি করেন, বিজয় শাহের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি হয়তো আসলে ওই নারী অফিসারের প্রশংসা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সঠিক শব্দ চয়ন করতে পারেননি। সলিসিটর জেনারেলের এই যুক্তি নসাৎ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “একজন রাজনীতিক হয়ে তিনি জানেন না কীভাবে প্রশংসা করতে হয়? এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। এই ধরনের ঘটনার পর প্রথমেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আদালত বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করার পরই কেবল ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।” এমনকি বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সিটের স্ট্যাটাস রিপোর্ট উদ্ধৃত করে জানান যে, বিজয় শাহের এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করার পুরনো অভ্যাস রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছিল। হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি অতুল শ্রীধরন কড়া ভাষায় জানিয়েছিলেন, এই মন্তব্য কেবল ওই সেনা অফিসারের অপমান নয়, বরং সশস্ত্র বাহিনীর শৌর্যকে খাটো করার সামিল। হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতেই গত ১৪ মে বিজয় শাহের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৫২, ১৯৬(১)(বি) এবং ১৯৭(১)(সি) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে এই মামলা রুজু হয়েছিল। শাহ এই মামলা বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সেখানেও কোনো স্বস্তি পাননি। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতের এই কড়া মনোভাবের পর এখন দেখার, শিবরাজ সিং চৌহানের সরকার নিজেদের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper