AB Live News
বাংলার মসনদে গেরুয়া সংকেত: ১৯১ আসনে এগিয়ে বিজেপি, শুরু পার্টি অফিস দখল
রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়ার সংকেত দিয়ে সরকার গঠনের চূড়ান্ত তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের গণনার যা ট্রেন্ড সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই ১৯১টি আসনে এগিয়ে গিয়ে ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই অতিক্রম করেছে, অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গিয়েছে মাত্র ৯৭টি আসনে। এই বিপুল জয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই গেরুয়া শিবির এখন থেকেই আগামীর প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সরাসরি নজরদারিতে একের পর এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে যেখানে মূল আলোচনার বিষয়বস্তু হলো শপথ গ্রহণের পর কীভাবে দ্রুত শাসনকাজ পরিচালনা করা হবে। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন যে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের অপশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবর্তনের যে রায় দিয়েছেন তাকে মর্যাদা দিতেই তাঁরা প্রশাসনিক ব্লু-প্রিন্ট সাজাতে শুরু করেছেন। বিশেষ সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে বিজেপি ইতিমধ্যেই একটি ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভার মতো কাঠামো তৈরি করছে যেখানে অভিজ্ঞ প্রাক্তন আমলা এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিনিয়ত রাজ্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সরকার গড়ার প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো যেমন আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম কিষান নিধি সম্পূর্ণ কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েক লক্ষ শূন্যপদ পূরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দলের রাজ্য দফতরে এখন সাজ সাজ রব, যেখানে আইনি সেল থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মণ্ডলী সবাই মিলে একটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা বা ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ চূড়ান্ত করছেন। বিজেপির এই প্রবল আত্মবিশ্বাস ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়ে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন যে তারা কেবল ক্ষমতায় বসার জন্য লড়াই করছেন না বরং একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে মেরামত করার লক্ষ্যেই এই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে রাজধানী কলকাতায় যখন সরকার গঠনের মহড়া চলছে, ঠিক তখনই রাজ্যের জেলাগুলোতে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেই চিরাচরিত ও আগ্রাসী ছবি। বিশেষ করে বাঁকুড়ার কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে যে খবর আসছে, তা ২০১১ সালের বাম বিদায়ের স্মৃতিকে ফের উসকে দিচ্ছে। গণনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই জয়ের গন্ধে মাতোয়ারা বিজেপি কর্মীরা কোতুলপুরের খিরি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুর গড়াতেই কয়েকশো বিজেপি কর্মী সমর্থক স্লোগান দিতে দিতে ওই পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হন এবং মুহূর্তের মধ্যে তৃণমূলের দেওয়ালে থাকা দলীয় প্রতীক ও উন্নয়নের স্লোগান মুছে সেখানে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পার্টি অফিসের ছাদে উঠে তৃণমূলের জোড়াফুল খচিত পতাকাটি টেনে নামিয়ে সেখানে সগৌরবে উড্ডীন করা হয় বিজেপির পদ্ম শিবিরের পতাকা। গোটা এলাকা জুড়ে তখন চলছে অকাল হোলি আর জয় শ্রীরাম স্লোগানের গর্জন। কোতুলপুরের এই ছবি যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের আনাচে-কানাচে শাসক শিবিরের অসংখ্য কার্যালয়ের মালিকানা বদল হতে চলেছে। ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হারের পর যে কায়দায় বামেদের কয়েক হাজার পার্টি অফিস হাতবদল হয়েছিল, ২০২৬-এর এই মে মাসে বাঁকুড়ার খিরি গ্রাম যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাল। এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষ নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলের এই কার্যালয়টিকে ‘মুক্ত’ করেছেন এবং এখন থেকে এখান থেকেই সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়া হবে। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ এবং ‘গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করলেও গেরুয়া আবিরের দাপটে তাঁদের প্রতিবাদ বর্তমানে কার্যত স্তিমিত।
দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের কেন্দ্রীয় সদর দফতরেও বাংলার এই সম্ভাব্য জয়ের খবরে উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্য নেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে কোনওভাবেই যেন বিজয় উৎসবে বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, যদিও নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই পার্টি অফিস দখলের ঘটনাগুলোতে ফুটে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ১৯১ বনাম ৯৭ আসনের এই বিশাল ব্যবধান এবং বিজেপির ধারাবাহিক রণকৌশল নির্ধারণ রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে যা সাধারণ ভোটারদের মনেও একটি শক্তিশালী বিকল্পের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে রাজপথ থেকে শুরু করে অন্দরমহল—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিজেপির এই সম্ভাব্য সরকার গঠনের রূপরেখা এবং রাজ্যে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিবর্তনের এই নাটকীয় মুহূর্ত। কোতুলপুরের মতো রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও একই রকমের মেরুকরণ এবং এলাকা দখলের লড়াই শুরু হয়ে যাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলার আকাশ-বাতাস এখন পরিবর্তনের নতুন গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে, যেখানে পুরনো শাসক কোণঠাসা আর নতুন শক্তির উত্থান কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। ১৯১টি আসনের এই বিপুল লিড বিজেপি শিবিরে যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তার আঁচ এখন গ্রাম বাংলার প্রতিটি বুথ স্তরে অনুভূত হচ্ছে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূল এজেন্টদের চোখেমুখে যখন আশঙ্কার ছায়া, তখন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা ইতিমধ্যেই লাড্ডু বিলি আর বিজয় মিছিলে মেতে উঠেছেন। বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় এখন প্রহর গুনছে সাধারণ মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

