AB Live News
ভবানীপুরে মমতার ঝোড়ো ব্যাটিং, চাপে শুভেন্দু
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের এই মহাসংগ্রামে সবথেকে নজরকাড়া কেন্দ্র ভবানীপুরে লড়াই এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে প্রতি মুহূর্তের ভোট গণনায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলছে স্নায়ুর লড়াই। আজ সকাল থেকেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস ছিল চতুর্থ রাউন্ডের শেষে তা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে নিজের ঘরের মাঠে দাপুটে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর থেকে প্রায় ৮ হাজার ভোটের এক স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন। গণনার শুরুতে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম থাকলেও রাউন্ড যত এগোচ্ছে ততই পাল্লাভারি হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের যেখানে দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরায় প্রমাণিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে ময়দানে নামা শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিকে কড়া টক্কর দিলেও চতুর্থ রাউন্ডে এসে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছেন যা গেরুয়া শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কারণ এই কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করা বিজেপির কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে এখন তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে এবং গণনাকেন্দ্রের বাইরে জয় বাংলা স্লোগানে মেতে উঠেছেন সমর্থকরা যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এখনই হাল ছাড়তে নারাজ এবং তাদের দাবি পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের ভোট গণনা শুরু হলে এই ব্যবধান আবার কমে আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভবানীপুরের এই লিড কেবল একজন প্রার্থীর এগিয়ে থাকা নয় বরং এটি রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকবে তার এক বড় সংকেত কারণ এই আসনটি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের আসন এবং এখানকার ভোটারদের রায় সমগ্র বাংলার রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সকালের দিকে দুই প্রার্থীর মধ্যে যে রুদ্ধশ্বাস লড়াই চলছিল তাতে মনে করা হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত হয়তো লড়াইটি আলোকবর্ষ দূরে পৌঁছাবে কিন্তু মমতার এই ৮ হাজার ভোটের ব্যবধান আপাতত তাঁকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয় পঞ্চম রাউন্ড থেকে পরবর্তী ধাপগুলোতে শুভেন্দু অধিকারী কোনো ম্যাজিক দেখাতে পারেন নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এই ব্যবধানকে এক ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গিয়ে বিজয়ের মুকুট পুনরায় নিজের মাথায় ধারণ করেন যা জানার জন্য উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে কয়েক লক্ষ মানুষ এখন টেলিভিশনের পর্দা এবং কমিশনের ওয়েবসাইটের দিকে তাকিয়ে রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা করছেন। প্রতিটি ইভিএম খোলার সাথে সাথে যেভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হচ্ছে তাতে ভবানীপুরের এই লড়াই বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

