Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

আরও দু’জনের দেহ উদ্ধার! জবলপুরে ক্রুজডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

0 769,874,601

 এরই নাম মা। মধ্যপ্রদেশ, জবলপুরের বর্গি বাঁধে ক্রুজের মর্মান্তিক ডুবে যাওয়ার ১৫ ঘন্টা পর, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ছবি প্রকাশিত হয়। মৃত্যুর সময়ও সন্তানকে কোল ছাড়া করেনি মা।

নর্মদার গর্ভে সলিল সমাধি, প্রকৃতির রুদ্ররোষ আর প্রশাসনিক উদাসীনতার মাশুল দিতে হল ১৩টি তাজা প্রাণকে। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বর্গি বাঁধে পর্যটকবাহী ক্রুজ ডুবির ঘটনায় রবিবার সকালে আরও দু’জনের দেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩। উদ্ধারকারী দল যখন নিথর দেহগুলো জল থেকে তুলছে, তখন এক মর্মন্তুদ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উপস্থিত জনতা। দেখা যায়, মৃত্যুর হিমশীতল আলিঙ্গনেও সন্তানকে কোলছাড়া করেননি এক মা। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরা মা ও শিশুর সেই দেহ যেন মানুষের জীবনের চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা এবং মাতৃত্বের চিরন্তন শক্তির এক করুণ দলিল হয়ে রইল। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, রবিবার সকালে উদ্ধার হওয়া বাকি দু’টি দেহ পাঁচ বছরের এক শিশু এবং তাঁর কাকার। ১৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযানের পর নিখোঁজ সকলেরই দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে। নর্মদা নদীর শান্ত বক্ষে বিহার করার জন্য ৪১ জন পর্যটক নিয়ে রওনা দিয়েছিল একটি প্রমোদতরী বা ক্রুজ। কিন্তু মাঝনদীতে পৌঁছতেই আবহাওয়া নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। আচমকা ধেয়ে আসা প্রচণ্ড ঝড়ে নর্মদার জল উথালপাথাল করতে শুরু করে। ঢেউয়ের উচ্চতা এতটাই বেড়ে যায় যে ক্রুজটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তীরের কাছাকাছি থাকা লোকজন বিপদের গুরুত্ব বুঝতে পেরে চিৎকার করে চালককে সতর্ক করেছিলেন। অনেকে ক্রুজটিকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বার বার ইশারা করেন। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের ঝাপটায় ক্রুজটি একপাশে হেলে গিয়ে ধীরে ধীরে জলের অতলে তলিয়ে যায়। স্থানীয় মাঝিরা তৎক্ষণাৎ দড়ি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, ট্র্যাজেডি এড়ানো যায়নি অনেকের ক্ষেত্রেই।

উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের বয়ান এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ক্রুজটির উপরের ছাদের অংশটি জলের তোড়ে দ্রুত নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক ভেতরেই আটকে পড়েন। যদিও তাদের অনেকের গায়েই লাইফজ্যাকেট ছিল, কিন্তু ক্রুজের ভেতরে আটকা পড়ায় ভেসে ওঠার কোনো সুযোগ ছিল না তাদের সামনে। শুক্রবার দিনভর তল্লাশি চালিয়ে আটজন মহিলা এবং এক শিশুর দেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার আরও দুই শিশুর দেহ মেলার পর রবিবার সকালে শেষ দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। গোটা জবলপুর জুড়ে এখন শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে নর্মদার তীর।

দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা এবং ক্রুজটির ফিটনেস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— যে ক্রুজটি পর্যটক নিয়ে মাঝনদীতে গিয়েছিল, সেটি ছিল প্রায় ২০ বছরের পুরনো। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পর্যটক নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। লাইফজ্যাকেট থাকলেও কেন তা অধিকাংশ যাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে পারল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিক তদন্তে চালকের হঠকারিতা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যাত্রা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রশাসন আপাতত বর্গি বাঁধে সমস্ত ধরণের জলযান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। নর্মদার তীরে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা, আর সেই মা-সন্তানের কোল ধরা দেহের স্মৃতি যা সাধারণ মানুষের চোখে জল এনে দিচ্ছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper