AB Live News
কৃষ্ণনগরে সিসিটিভি বিভ্রাট, গণনার মুখে তুঙ্গে চুরির আশঙ্কা ও বিতর্ক
রমিত সরকার, (কৃষ্ণনগর): ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্যের কুয়াশা। এবার খাস নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠল অত্যন্ত গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন। ভোট গণনার প্রাক্কালে স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরা আচমকা ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। যে ইভিএম মেশিনে কয়েক লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক রায় বন্দি হয়ে আছে, তার নিরাপত্তায় এই ছিদ্র কেন—সেই প্রশ্ন তুলে রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে ধরা দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
অভিযোগের তির ৮৩ কৃষ্ণনগর উত্তর, ৮২ চাপড়া, ৮০ কালীগঞ্জ এবং ৮১ নাকাশিপাড়া—এই চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের দিকে। জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে চূড়ান্ত গণনার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নজরদারি ক্যামেরার স্ক্রিন আচমকা অন্ধকার হয়ে যায়। মোট ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড পর্যন্ত এই অচলাবস্থা বজায় ছিল। একজন সচেতন পোলিং এজেন্টের নজরে বিষয়টি আসতেই মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে বাইরে। স্ট্রং রুমের মতো সংবেদনশীল এলাকায়, যেখানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা থাকার কথা, সেখানে এমন প্রযুক্তিগত ‘বিচ্যুতি’ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। শাসক শিবিরের দাবি, এই ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের সময়সীমা মোটেও নগণ্য নয়; এর মধ্যে ইভিএম-এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গণনার আগে এই ধরনের রহস্যময় সিসিটিভি বিভ্রাট আসলে বিরোধী শিবিরের কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। দলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে স্ট্রং রুমের ভেতরে কোনো অনভিপ্রেত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অবশ্য বিষয়টিকে স্রেফ ‘যান্ত্রিক গোলযোগ’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে রাজনীতির অলিন্দে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, শেষ মুহূর্তের স্নায়ুর লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেই এই সিসিটিভি বিভ্রাটকে হাতিয়ার করছে সব পক্ষই। কৃষ্ণনগর উত্তরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে, যেখানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই চলছে, সেখানে নিরাপত্তার এমন ত্রুটি ভোটারদের মনেও আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। গণনা শুরুর ঠিক আগে এই ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের রহস্য উদ্ঘাটন না হলে কৃষ্ণনগরের ফলাফল ঘিরে বিতর্কের রেশ যে আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা বলাই বাহুল্য। ইভিএম-এর সুরক্ষাবলয় নিয়ে এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই শুরু হয়েছে কাউন্টডাউন। সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধের নেপথ্যে কোনো মানুষের হাত ছিল নাকি নিছকই যান্ত্রিক গোলোযোগ, সেই জট খোলার আগেই ইভিএম বাক্স খোলার সময় হয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে, কৃষ্ণনগরে আজ গণনার আগেই যে রাজনৈতিক নাটক শুরু হল, তা নদিয়ার নির্বাচনী ইতিহাসকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। কৃষ্ণনগর থেকে নাকাশিপাড়া—সর্বত্রই এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ওই ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে আসলে কী হয়েছিল? আদতে কি ভোটের রায় নিরাপদ রয়েছে, নাকি পর্দার আড়ালে ঘটে গেল অন্য কিছু? উত্তর মিলবে ব্যালট ও ইভিএম গণনার চূড়ান্ত রাউন্ডের শেষে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

