AB Live News
বাঁকুড়ার জট খুলবে ইভিএমে, কড়া পাহারায় শুরু হল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
লাল মাটির জেলায় আজ কার জয়ডঙ্কা বাজবে? দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর প্রচারের পারদ চড়ার পর আজ সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বাঁকুড়া জেলা জুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। সোমবার সকাল হতেই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে জেলার তিনটি প্রধান গণনাকেন্দ্র। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, বিষ্ণুপুরের কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এবং জঙ্গলমহলের প্রবেশদ্বার খাতরা আদিবাসী মহাবিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে গণনা প্রক্রিয়া। রাউন্ড যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মানচিত্র গত বারের মতো গেরুয়া অভিমুখে থাকবে, নাকি ঘাসফুল শিবিরের প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হবে।
সকাল থেকে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় থিকথিকে ভিড়। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে কাউন্টিং এজেন্ট এবং গণনাকর্মীরা একে একে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। পরিচয়পত্র পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কড়া নজরদারি চোখে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই যেন গণনাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বা কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট না ঢোকে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট টেবিলে প্রশিক্ষিত কর্মীরা বসেছেন। ভোটদান পর্বের মতো গণনা পর্বেও যাতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিবাদ না ঘটে, তার জন্য মাইক্রো-অবজারভারদের উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে।
বাঁকুড়া জেলার ১২টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে তিনটি ভিন্ন জায়গা থেকে। খাতরা আদিবাসী মহাবিদ্যালয়ে জঙ্গলমহলের আসনগুলোর ওপর বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণনাকেন্দ্রটি বাঁকুড়া সদর এবং সংলগ্ন কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণা করবে। সকাল থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমেই শুভসূচনা হয়েছে। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। কখনও বিজেপি এগিয়ে যাচ্ছে, তো কখনও তৃণমূল কংগ্রেস ব্যবধান কমিয়ে ফেলছে। জেলার রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা মনে করছেন, বেলা দশটার পর ইভিএম-এর দ্বিতীয় বা তৃতীয় রাউন্ডের শেষে একটা প্রাথমিক রূপরেখা পাওয়া সম্ভব হবে।
বাঁকুড়া শহরের বাইরে জাতীয় সড়কের ধারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে জমায়েত বাড়ছে। কর্মী-সমর্থকদের হাতে দলীয় পতাকা আর চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। গণনাকেন্দ্রের কয়েকশো মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর কথায়, “আমরা আশাবাদী, বাঁকুড়া তার পুরনো মেজাজ বজায় রাখবে।” অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের দাবি, “উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ এবার জোড়াফুলকে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন।” সব মিলিয়ে বাঁকুড়ার মাটির উত্তাপকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভোট গণনার উত্তাপ। কে গড় রক্ষা করবেন আর কার হাত থেকে ক্ষমতার চাবিকাঠি ফসকে যাবে, তা জানতে এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের কান এখন গণনাকেন্দ্রের লাউডস্পিকারের ঘোষণার দিকে। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হবে বাঁকুড়ার বারোটি আসনে শেষ হাসি কে হাসলেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

