Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ভোটের মুখে ধর্মীয় আবেগে শান বিজেপির, তোপ মমতার

0 67,109,366

 ভোটের ময়দানে ধর্মকে হাতিয়ার করে বিজেপি নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ম্যারাথন নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গ হিসেবে মন্তেশ্বরের সভামঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জোরপূর্বক ধর্মীয় শপথ দেওয়ানো হচ্ছে। নেত্রীর দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের পবিত্র গীতা ছুঁইয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হচ্ছে যে তাঁরা যেন বিজেপিকেই ভোট দেন। শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায় নয়, অন্য ধর্মের শ্রমিকদেরও তাঁদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে একইভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করে এভাবে ধর্মীয় আবেগকে ভোটের বাক্সে রূপান্তরের চেষ্টা চরম নিন্দনীয়।

এদিন পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার আসন বাড়িয়েও মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর না করতে পারার জন্য বিজেপিকে বিঁধে তিনি বলেন, “বাংলাকে তোমরা টার্গেট করেছ বলেই বারবার এখানে এসে পর্যটকের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছ। পরশু দিন মানুষ তোমাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে, আগামী দিনে দিল্লি থেকেও তোমাদের বিদায় নিশ্চিত করব।” ভোট আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা এবং এলাকায় এলাকায় ভারী সামরিক যান চলাচল নিয়েও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “বাংলায় এমনভাবে যুদ্ধের গাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে যেন এখানে কোনো যুদ্ধ চলছে। মনে রাখবেন, আমরা গণতন্ত্রের মাধ্যমে এই লড়াই লড়ব।”

মন্তেশ্বরের আগে কালনার সভা থেকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে বড়সড় আশ্বাস দেন তিনি। মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গই দেশের একমাত্র রাজ্য যেখানে সরকারি কর্মীরা এখনও পেনশন পান। আপনারা ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশ ডিএ পেয়ে গিয়েছেন, বাকি ৪ শতাংশ ডিএ-ও খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবেন।” পাশাপাশি ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দপ্তরের লাগাতার তল্লাশি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপি নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দালালের মতো ব্যবহার করছে। দিল্লির শাসকরা ‘বসন্তের কোকিল’—ভোট ফুরোলে তাঁদের আর দেখা মেলে না, অথচ নির্বাচনের সময় এজেন্সি পাঠিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।

রবিবার তারকেশ্বর থেকে শুরু করে কালনা, মন্তেশ্বর এবং বর্ধমান দক্ষিণ—একই দিনে চারটি জনসভা করে কার্যত ঝড় তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি সভা থেকেই তাঁর নিশানায় ছিল কেন্দ্র। তিনি সাফ জানান, বাইরের গুন্ডা এবং এজেন্সি দিয়ে বাংলাকে স্তব্ধ করা যাবে না। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে এবং এই ‘বিজাতীয়’ রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। সব মিলিয়ে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে শপথ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে মমতা এদিন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করলেন, যা আগামী দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper