AB Live News
জ্বলবে তিলোত্তমা, আসছে সুপার এল নিনো

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে নিঃশব্দে দানা বাঁধছে এক মহাপ্রলয়, যার আঁচ এসে পড়তে চলেছে আমাদের এই চেনা শহরের ওপর। আবহাওয়া দপ্তর থেকে পাওয়া সর্বশেষ সংকেত অনুযায়ী, এই বছর আর পাঁচটা বছরের মতো সাধারণ গরম নিয়ে আসছে না, বরং ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে চলেছে এক অভিশপ্ত দহনকাল হিসেবে। মে মাস থেকেই শুরু হতে চলেছে সেই অগ্নিপরীক্ষা। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গিয়ে সৃষ্টি করছে এক ‘সুপার এল নিনো’, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলবায়ুর মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এর প্রভাবে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গরম জলের ধারা বায়ুমণ্ডলের গতিপ্রকৃতিকে এমনভাবে ওলটপালট করে দিচ্ছে, যার খেসারত দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতবাসীকে। গত তিন বছর যাবৎ আমরা ‘লা নিনা’র প্রভাবে যে তুলনামূলক স্নিগ্ধ আবহাওয়া বা অতিরিক্ত বৃষ্টির দেখা পেয়েছিলাম, সেই রক্ষাকবচ এবার চিরতরে ছিন্ন হতে চলেছে। আইএমডি-র আশঙ্কা, এবার কলকাতার তাপমাত্রা গত কয়েক দশকের সমস্ত রেকর্ড তছনছ করে দিতে পারে। যেখানে ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই শহরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়, সেখানে সুপার এল নিনোর প্রভাবে সেই পারদ ৪৫ এমনকি ৫০ ডিগ্রির গণ্ডি ছুঁয়ে ফেললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় লু-এর দাপট এবং খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার চরম সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির খাতা এবার শূন্যই থাকতে পারে অনেক ক্ষেত্রে। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করার কথা থাকলেও, এল নিনোর সক্রিয়তা মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করে দেবে। ফলে সময়মতো বৃষ্টি না আসা এবং বৃষ্টির দীর্ঘ বিরতি ভারতের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দেবে। ভারতের মতো জনবহুল দেশে, যেখানে ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাত নির্ভর করে এই মৌসুমি বায়ুর ওপর, সেখানে জলসংকট কেবল চাষবাস নয়, বরং পানীয় জলের হাহাকারকেও উস্কে দেবে। নদী ও জলাধারগুলোর জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ সরবরাহে। তীব্র দাবদাহে যখন এসি বা কুলারের চাহিদা তুঙ্গে থাকবে, তখনই পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী গরম মানুষের শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, বাড়তে পারে হিটস্ট্রোক এবং জলবাহিত রোগের প্রকোপ। আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো কেবল একটি মরসুম নয়, বরং গোটা বছরটাকেই উষ্ণতম বছরের তালিকায় ঠেলে দিতে চলেছে। শহর কলকাতা এখন এক জ্বলন্ত চুল্লির অপেক্ষায় দিন গুনছে, যেখানে বৃষ্টির শীতল পরশ পাওয়া হয়ে উঠবে এক অলীক স্বপ্ন। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্ব উষ্ণায়ন আর কেবল পাঠ্যবইয়ের আলোচনা নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তব যা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে এক মরুভূমি-সম ভবিতব্য নিয়ে। মে মাস থেকে জুলাই—এই তিন মাস হতে চলেছে এক অগ্নিগর্ভ সময়কাল, যেখানে আকাশ থেকে ঝরবে আগুনের ফুলকি আর মাটি ফেটে হবে চৌচির। সুদূর মহাসাগরের সেই উষ্ণ স্রোত এবার আমাদের চেনা গঙ্গাপাড়ের শহরকে তপ্ত বালুকারাশির উত্তাপ দিয়ে ঝলসে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ওষ্ঠাগত প্রাণ নিয়ে শহরবাসী এখন কেবলই এক চিলতে মেঘের সন্ধানে চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছে না। প্রস্তুত থাকুন, কারণ এ বছর সূর্য শুধু উঠবে না, সূর্য এবার আক্ষরিক অর্থেই শাসন করতে আসছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

