AB Live News
পাণিহাটিতে মোদি: নজরে অভয়ার মা
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই তিলোত্তমার বিচার আর আর জি কর কাণ্ডকে ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে যে আবেগের চোরাস্রোত বইছিল, এবার তা সরাসরি আছড়ে পড়তে চলেছে নির্বাচনী ময়দানের কেন্দ্রে। আগামী সপ্তাহেই রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তাঁর এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে উত্তর ২৪ পরগনার পাণিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। কারণ, এই কেন্দ্র থেকেই এবার বিজেপির টিকিটে লড়াই করছেন আর জি করের সেই অভয়া-কন্যা, যাঁর বিচার চেয়ে একসময় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। সেই নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথের সমর্থনে এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী ভোটপ্রচারে নামছেন বলে সূত্রের খবর। ২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত আগস্ট মাসের পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অভয়ার পরিবারের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাণিহাটির এই কর্মসূচি কেবল একটি নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং এটি আর জি কর কাণ্ডের বিচার না পাওয়ার ক্ষোভকে সরাসরি ভোটের ব্যালটে প্রতিফলিত করার এক সুপরিকল্পিত কৌশল। রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী ২৪ এপ্রিল, অর্থাৎ প্রথম দফার ভোট মিটে যাওয়ার ঠিক পরের দিনই পাণিহাটিতে পা রাখতে পারেন মোদি। কর্মসূচি হিসেবে বড় কোনও জনসভা অথবা দীর্ঘ রোড শো-র পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদি এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজনীতির আঙিনায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যাবে—যেখানে এক শোকাতুর মা, যিনি আজ বিচার পাওয়ার তাগিদে রাজনীতির ময়দানে নামতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে হাত ধরবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই সাক্ষাৎ যে কেবল পাণিহাটি নয়, বরং সংলগ্ন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এবং গোটা রাজ্যের ভোটারদের মনে এক গভীর প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শোনা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সময়ের সংস্থান করতে পারলে সরাসরি অভয়ার বাড়িতেও যেতে পারেন। সেখানে রত্না দেবনাথের সঙ্গে কথা বলে তাঁর যন্ত্রণার ভাগীদার হওয়া এবং বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বাস দেওয়া হতে পারে মোদির প্রধান লক্ষ্য। যদিও এই সূচি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিলমোহর পড়েনি, কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্দরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে তুঙ্গে। এবারের নির্বাচনে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারি’র যে ধারা দেখা যাচ্ছে, তাতে মোদি-শাহ থেকে শুরু করে আটটি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বাংলায় নামানো হয়েছে। তবে পাণিহাটির এই প্রচার সবথেকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন এই প্রার্থীপদকে ‘রাজনীতিকরণ’ বলে কটাক্ষ করছে, তখন পাল্টা সেন্টিমেন্টের তাস খেলে পদ্ম শিবির বোঝাতে চাইছে যে তারা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে শেষ দিন পর্যন্ত রয়েছে। পাণিহাটিতে মোদির এই হাইভোল্টেজ প্রচার যদি সফল হয়, তবে সেই হাওয়ায় সংলগ্ন কেন্দ্রগুলির প্রার্থীদের পালেও যে হাওয়া লাগবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের পর পাণিহাটির ভোটচিত্র এবং তিলোত্তমার বিচার চাওয়ার আন্দোলন কোন নতুন মোড় নেয়। রাজ্যবাসী এখন তাকিয়ে সেই শুক্রবারের দিকে, যখন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অভয়ার মায়ের মুখোমুখি হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। চব্বিশের আগস্ট থেকে ছাব্বিশের এপ্রিল—বিচার না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে এবার যুক্ত হতে চলেছে ক্ষমতার লড়াই আর প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার প্রতিচ্ছবি। পাণিহাটির রাজপথ কি তবে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের সাক্ষী হতে চলেছে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা বাংলা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

