AB Live News
রেলপথে আবর্জনা ফেললেই বিপদ! একদিনে জালে ১৪৪৭ জন, কড়া দাওয়াই পূর্ব রেলের
রেলের ট্র্যাকে বা স্টেশনে যত্রতত্র প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট কিংবা ময়লা ফেলা এখন শুধু অভ্যাসের দোষ নয়, দণ্ডনীয় অপরাধ। ভারতীয় রেলের ১৭৩তম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে এক নজিরবিহীন ‘ক্লিনলিনেস ড্রাইভ’ বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাল পূর্ব রেলওয়ে। গত ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিনভর চলা এই সাঁড়াশি অভিযানে পূর্ব রেলের বিভিন্ন ডিভিশন থেকে মোট ১ হাজার ৪৪৭ জনকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা। রেলের এই কঠোর অবস্থান বার্তা দিচ্ছে— পরিচ্ছন্নতার প্রশ্নে আর কোনো আপস নয়।
রেকর্ড জরিমানা শিয়ালদহে, তালিকায় হাওড়া-মালদহ
পূর্ব রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিয়ালদহ ডিভিশন যাত্রী এবং ব্যবহারকারীদের নিয়মানুবর্তিতার পাঠ দিতে সবথেকে বেশি সক্রিয় ছিল। এই ডিভিশন থেকেই ৬১৫ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জরিমানা বাবদ ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে হাওড়া ডিভিশন, যেখানে ৪৫৭ টি মামলার প্রেক্ষিতে ৯১ হাজার ৪০০ টাকা সংগৃহীত হয়েছে। শিল্পাঞ্চল আসানসোলে ২১৭ জন ধরা পড়ায় আদায় হয়েছে ৪৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং মালদহ ডিভিশনে ১৫৮ টি মামলার বিপরীতে ৩১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, মহানগরীর ব্যস্ততম স্টেশন এবং শহরতলীর রেলপথগুলোতে ময়লা ফেলার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জরিমানার এই বিপুল অংক আসলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অসচেতনতারই প্রতিফলন।
কেন ট্র্যাকে ময়লা ফেলা বিপজ্জনক?
অনেকেই ট্রেনের জানালা দিয়ে বা প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্র্যাকে প্লাস্টিক বা বর্জ্য পদার্থ ফেলে দেন হালকা চালে। কিন্তু রেল আধিকারিকদের মতে, এটি কেবল দৃশ্যদূষণ বা পরিবেশ দূষণ নয়, বরং ট্রেন চলাচলের পথে বড় ধরনের কারিগরি অন্তরায়। রেললাইনে জমে থাকা প্লাস্টিক বা ধাতব বর্জ্য আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এছাড়া পচনশীল ও রাসায়নিক বর্জ্য ট্র্যাকের ইস্পাত ও স্লিপারের স্থায়ী ক্ষতি করে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, ট্র্যাকে আবর্জনা জমে থাকলে স্টেশনের জল নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, যা বর্ষাকালে ট্র্যাকের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয় এবং ট্রেনের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য করে। এটি পরোক্ষভাবে হাজার হাজার যাত্রী নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিকের বার্তা
পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, “জরিমানার মূল লক্ষ্য অর্থ সংগ্রহ নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে প্রত্যেক নাগরিক রেল চত্বর পরিষ্কার রাখাকে নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করবেন। রেল জনগণের সম্পত্তি, আর তা রক্ষা করার দায়িত্বও সাধারণ মানুষের।” তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি আধুনিক রেল পরিষেবা পেতে গেলে নাগরিকদের আচরণেও আধুনিকতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
আগামী দিনেও বজায় থাকবে নজরদারি
রেল সূত্রে খবর, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান কেবল একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্টেশন চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকের রেল পুলিশ (RPF) মোতায়েন করা হচ্ছে যাতে নোংরা ফেলার সময় কাউকে চিহ্নিত করা সহজ হয়। রেলের পক্ষ থেকে বারংবার মাইকিং করে এবং স্টেশনে ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমেও যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে। যাত্রীদের কাছে বিনীত আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন নিজের ব্যবহৃত আবর্জনা ব্যাগে রাখেন অথবা নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করেন।
পরিচ্ছন্ন রেল ও নিরাপদ যাত্রা—এই স্লোগানকে সার্থক করতেই এখন কোমর বেঁধে নেমেছে পূর্ব রেলওয়ে। এদিনের এই বিপুল জরিমানা এবং ধরপাকড় কি সাধারণ যাত্রীদের মজ্জাগত অভ্যাসে বদল আনবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রেল প্রশাসন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

