AB Live News
তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার স্ত্রীর দগ্ধ দেহ
শিবনাথ দাস : সাতসকালে দুর্গাপুরের প্রভাবশালী প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতির দোতলা বাড়ি থেকে উদ্ধার হল তাঁর স্ত্রীর আগুনে পোড়া দেহ। মঙ্গলবার সকালে জামুড়িয়া থানা এলাকার কেন্দা ফাঁড়ির সোনপুর গ্রামের এই ঘটনায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও রহস্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম পম্পা মণ্ডল (৪০)। তিনি পাণ্ডবেশ্বর এলাকার তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি নরোত্তম মণ্ডলের স্ত্রী। এটি নিছকই দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ নরোত্তমবাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ নরোত্তমবাবুর দোতলা বাড়ি থেকে আচমকা কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। আগুন লেগেছে আঁচ করে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে বাড়ির মূল ফটকে দীর্ঘক্ষণ ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কারও কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে এলাকায় গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির বাইরের সংলগ্ন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে ব্যালকনির দরজায় জোর আঘাত করতে শুরু করেন। তাঁদের ক্রমাগত হাঁকডাকে নরোত্তম-পম্পার নাবালক ছেলে ভিতর থেকে বন্ধ থাকা দরজাটি খুলে দেয়। বাড়ির ভিতর ঢুকতেই শিউরে ওঠেন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁরা দেখেন, ঘরের মেঝেতে নিথর ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন গৃহবধূ পম্পা।তড়িঘড়ি খবর পাঠানো হয় জামুড়িয়া থানার কেন্দা পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে পম্পাদেবীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার সময় নরোত্তম বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। পরে পুলিশই তাঁকে ফোনে ডেকে পাঠায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং শরীরের ক্ষতের প্রকৃতি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে নরোত্তমের সঙ্গে পম্পার বিয়ে হয়েছিল। তবে গত বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে চরম পারিবারিক অশান্তি ও কলহ চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। সেই কারণে একই ছাদের তলায় থাকলেও তাঁরা কার্যত আলাদাভাবেই দিন কাটাচ্ছিলেন। এই তীব্র পারিবারিক টানাপড়েনের জেরেই কি এই মর্মান্তিক পরিণতি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও অন্ধকার রহস্য, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতি রঞ্জিত কুমার সিনহা অভিযোগ করেন, নরোত্তম অত্যন্ত প্রতাপশালী নেতা হওয়ায় এলাকায় নিজের ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। এলাকার মানুষের পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের উপরেও নিয়মিত অত্যাচার চালাতেন। এমনকি নিজের স্ত্রীর প্রতিও তিনি কখনও কোনও সহানুভূতি দেখাননি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত চালানো হচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

