AB Live News
প্রতীক বিতর্কেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্বস্তি মমতার তৃণমূলের
শিবনাথ দাস: অবিভক্ত তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক সাময়িকভাবে হাতছাড়া হলেও দলীয় তহবিলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তি পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ওপর নতুন করে কোনও বিধিনিষেধ চাপাল না কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর পূর্ববর্তী নির্দেশই বহাল রেখে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছর ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমেই ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশটি নেহাতই অন্তর্বর্তী হওয়ায় আদালত নিজের আগের অবস্থান থেকে সরছে না বলেই পর্যবেক্ষণ বিচারপতির। উল্লেখ্য, অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করে দিয়েছিল রাজ্য পুলিশ। সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলে গত ৯ জুলাই বিচারপতি একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেন। আদালত একজন বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে জানিয়ে দিয়েছিল, দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা এবং কর্মীদের ন্যায্য বেতন মেটানোর জন্য নিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থ খরচ করতে পারবে কালীঘাট শিবির। সোমবার এই মামলার শুনানিতে বর্তমান শাসক দল ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আপত্তি তোলা হয়। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার সওয়াল করেন, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, উপনির্বাচনে কোনও পক্ষই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহার করতে পারবে না। যেহেতু মামলাটি ওই দলের নামেই দায়ের হয়েছিল, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পিটিশন আর গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাজ্য সরকারের এই আইনি যুক্তি অবশ্য খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে একটি সাময়িক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করেনি। কমিশন চূড়ান্ত ফয়সালা না করা পর্যন্ত আদালত নিজের পূর্ববর্তী অবস্থান পরিবর্তন করবে না। রাজ্যের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, আদালত এখন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে ভবিষ্যতে যখন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তখন জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ না করে পূর্বের নজরদারি ব্যবস্থা বহাল রাখে। এদিনের শুনানিতে পুলিশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দেয়। কমিশনের জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত তৃণমূলের জন্য আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক বড় ধরনের আর্থিক ও রাজনৈতিক অক্সিজেন জোগাল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

