AB Live News
দুর্গার আবাহন, গোপাল মুখোপাধ্যায়ের স্মরণ,গণেশ পুজোয় ‘নতুন বাংলা’র বার্তা!
রাজনন্দিনী ঘোষ ::গণেশ পুজো ঘিরে কলকাতার মণ্ডপে এ বছর শুধু উৎসব নয়, স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক ভাবনা, বাঙালি পরিচয়ের দাবি এবং সাংস্কৃতিক অবস্থানও। জনবাজার থেকে কসবায়—থিমের ভাষায় ফুটে উঠছে বদলে যাওয়া বাংলার ছবি।দুর্গাপুজোর আগে গণেশ পুজো। এতদিন শহরের বহু জায়গায় এই উৎসব ছিল মূলত ছোট পরিসরের ধর্মীয় আয়োজন। কিন্তু সময় বদলেছে। এ বছর কলকাতার একাধিক গণেশ পুজোর মণ্ডপ যেন হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বার্তা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক বক্তব্য প্রকাশের নতুন মঞ্চ।সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে জনবাজারের গণেশ পুজো। মণ্ডপে গণেশের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে দুর্গার ছবি। তার পাশেই বসানো হয়েছে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের অর্ধমূর্তি। ১৯৪৬-এর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসের সময় সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠিত করার সঙ্গে যাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে, সেই গোপাল মুখোপাধ্যায়কে হিন্দুত্ববাদী পরিসরে বাঙালি হিন্দু আইকন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে।রবিবার সন্ধ্যায় এই পুজোর উদ্বোধন করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পুজো কমিটির সহ-সভাপতি আশিস শর্মার কথায়, গণপতি নতুন যাত্রার আগে পূজিত হন। তাঁদের বক্তব্যে সেই ‘নতুন যাত্রা’র সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। গণেশের মাধ্যমে দুর্গাকে ‘পরিবর্তিত বাংলায়’ আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেছেন তিনি। শুধু থিম নয়, বেড়েছে পুজোর বাজেটও। জনবাজারের এই পুজোয় এ বছর খরচ সাত লক্ষ টাকার বেশি—গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।তবে এই প্রবণতা একেবারেই নতুন নয়। গত কয়েক বছরে গণেশ পুজোর মণ্ডপেও উঠে এসেছে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু। গত বছর আনোয়ার শাহ রোডের একটি মণ্ডপে লেখা হয়েছিল প্রাতুল মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গান—‘আমি বাংলায় গান গাই’। বাঙালি পরিচয়ের সেই বার্তাকে সামনে রেখে মণ্ডপে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষদের, বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের, কথিত হয়রানির বিরুদ্ধে। বিষয়টি তৃণমূলের অন্যতম নির্বাচনী ইস্যুও ছিল।আবার আরজি কর-কাণ্ডের সময় ন্যায়বিচারের দাবিও জায়গা করে নিয়েছিল গণেশ পুজোর মণ্ডপে। কোভিডের সময় মণ্ডপসজ্জায় উঠে এসেছিল মাস্ক, সামাজিক দূরত্বের মতো সচেতনতামূলক বার্তাও। অন্যদিকে কসবায় পি. মজুমদার ব্রিজ ইন্দু পার্ক গার্ডেন কমিটির ১৬ বছরের পুজোয় দেখা গিয়েছে পদ্মফুলের আদলে তৈরি মণ্ডপ। উদ্যোক্তাদের দাবি, এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই; প্রতি বছরই তাঁরা কোনও না কোনও থিম বেছে নেন। উৎসবের অন্য ছবিটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গণেশ পুজোর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। মাইকে বাজছে গণেশ বন্দনার গান। দোকানে দোকানে বাড়ছে লাড্ডু, মোদকের চাহিদা। তবে বৃষ্টির ভ্রুকুটি এখনও চিন্তায় রেখেছে উদ্যোক্তাদের। ভবানীপুরের রাখাল মুখার্জি রোডে গণপতি ভক্ত মণ্ডলের পুজো এবার ১৪ বছরে পা দিয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে এক হাজারেরও বেশি তাজা লাড্ডু। একইভাবে বেহালার ব্রজমণি দেব্যা রোডের শ্রী শ্রী গণেশ পুজোয় ১৯ ফুটের প্রতিমা এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ। পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জন দুঃস্থ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে পোশাক। অর্থাৎ গণেশ পুজোর কলকাতায় এবার পাশাপাশি হাঁটছে ধর্ম, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সমাজসেবা। দুর্গাপুজোর বহু আগে শহরের মণ্ডপগুলিই যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে—উৎসব এখন শুধু প্রতিমা আর আলোর সাজ নয়, সময়ের কথাও বলছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

