Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

তারাপীঠে পুণ্যযাত্রা বদলে গেল মৃত্যুমিছিলে! হোটেলে আগুনে ঝলসে গেল ৭ প্রাণ

0 6,743,259

শ্রীতমা ব্যানার্জী : বীরভূমের তারাপীঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সোমবার ভোররাতে চারতলা একটি হোটেলে আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত ৭ জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। মৃত ও আহতদের অধিকাংশই শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে আসা পুণ্যার্থী বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ হোটেলের একতলায় আচমকাই আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই গভীর ঘুমে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা তলায়। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। ফলে উপরের তলাগুলিতে থাকা অতিথিরা কার্যত ঘরের ভিতরেই আটকে পড়েন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর শুরু হয় হোটেলের ভিতরে আটকে থাকা অতিথিদের উদ্ধারকাজ।

উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। আবার অনেকে ঘন ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

প্রথমে হাসপাতাল সূত্রে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে পুলিশের তরফে মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭ করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “মৃতের সংখ্যা এখন সাত।”

হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তাঁদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বৈদ্যুতিক অংশে আগুন ধরে যায়। হোটেলের রিসেপশনের কাছ থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। যদিও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হোটেলের ভিতরে থাকা বিভিন্ন ডেকোরেটিভ ও ফাইবার সামগ্রীতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ড থেকে কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে ফেরা কলকাতার এক মহিলা জানান, “হঠাৎ গোটা হোটেল ধোঁয়ায় ভরে যায়। শ্বাস নিতে পারছিলাম না। কোথা দিয়ে বের হব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।”

আরও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন হোটেলের অতিথি তপনজ্যোতি মণ্ডল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট ঘরের ভিতরে আটকে ছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, আগুনের কারণে দরজা দিয়ে বেরোনোর কোনও উপায় ছিল না। ঘরে জানলাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত বাথরুমের ছাদের কাছের একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান তাঁরা।

অগ্নিকাণ্ডে তপনজ্যোতির মা অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁর বোনও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার তারাপীঠে সাধারণত বিপুল সংখ্যক ভক্তের ভিড় হয়। সেই পুণ্যার্থী ভিড়ের মধ্যেই এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং এত দ্রুত আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper