AB Live News
ফুটপাত দখল করলেই অ্যাকশন! পার্ক স্ট্রিট থেকে পার্ক সার্কাসে কড়া অভিযান
শ্রীতমা ব্যানার্জী : কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত করিডর পার্ক স্ট্রিট থেকে পার্ক সার্কাস ৭-পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা এবার হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। রবিবার রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাত দখল করে হকারি বরদাস্ত করা হবে না। পথচারীদের চলাচলের জায়গা ফিরিয়ে দিয়ে গোটা রাস্তার সৌন্দর্যায়ন ও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, “পার্ক স্ট্রিট কলকাতার জানলা।” শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলার কারণে পথচারীদের হাঁটার জায়গা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তাই পার্ক স্ট্রিট-চৌরঙ্গি মোড় থেকে পার্ক সার্কাস ৭-পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তার প্রায় ২ কিলোমিটার অংশে নতুন করে ফুটপাত তৈরি, পর্যাপ্ত আলো এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের এই ঘোষণায় কার্যত স্পষ্ট, বর্তমানে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে যে হকাররা ব্যবসা করছেন, তাঁদের সরতে হবে। তবে প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত, আচমকা উচ্ছেদ না করে তাঁদের কিছুটা সময় দেওয়া হবে। অর্থাৎ একদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান, অন্যদিকে হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে সরকার।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে পার্ক স্ট্রিট ও চৌরঙ্গি এলাকায় আচমকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তখনও তিনি হকারদের ফুটপাতের একদিকে বসে ব্যবসা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা ফাঁকা রাখার কথা বলেছিলেন।
এরপর চলতি মাসের শুরুতে পার্ক স্ট্রিট পোস্ট অফিসের সামনে বসা স্টেশনারি বিক্রেতা এবং পার্ক স্ট্রিট-রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের সংযোগস্থলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অফিসের কাছে থাকা কয়েকজন খাবার বিক্রেতাকেও সরানো হয়।
তবে পার্ক স্ট্রিটের পূর্ব প্রান্তে এই অভিযান প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। মল্লিকবাজার থেকে পার্ক সার্কাস ৭-পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাতের উপর হকারি ও বসবাসের সমস্যা রয়েছে। ফলে এই অংশকে দখলমুক্ত করা শুধুমাত্র সৌন্দর্যায়নের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা ও পুনর্বাসনের প্রশ্নও।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাই শুধু উচ্ছেদ নয়, বিকল্প ব্যবসার জায়গা, পুনর্বাসন এবং ধারাবাহিক নজরদারি—সবকিছুর উপরই নজর দিতে হবে। পার্ক স্ট্রিটকে পরিচ্ছন্ন, আলোঝলমলে ও পথচারীবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

