Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

“হানিমুনে সুখের বদলে নির্যাতন! পিরিয়ড হওয়ায় স্ত্রীকে বেধড়ক মার, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ”

0 549,037

রিচা সেন : হনিমুনে গিয়ে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ায় স্ত্রীকে মারধর এবং গলা টিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের এক মহিলার অভিযোগ, ২০২৩ সালে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে হানিমুন চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। স্ত্রীর দাবি, ঋতুস্রাব হওয়ায় স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারেন। এমনকী গলা টিপে ধরারও চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার প্রায় তিন বছর পর অবশেষে এফআইআর দায়ের হয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেও মামলা দায়ের করাতে পারেনি মহিলার পরিবার। শেষ পর্যন্ত গোরখপুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) ড. কৌস্তভের হস্তক্ষেপে গত ১৫ অগস্ট এফআইআর দায়ের হয়।
অভিযোগে দিল্লির বাসিন্দা নিখিল মিশ্রের নাম রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মা অর্থাৎ মহিলার শাশুড়ি এবং বোন অর্থাৎ ননদের বিরুদ্ধেও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মহিলার দাবি, ২০২৩ সালের ৩০ মে দিল্লিতে নিখিলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের আগেই শ্বশুরবাড়ির তরফে বাপের বাড়ি থেকে দেওয়া সামগ্রীতে ব্র্যান্ডের নাম লাগানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের দাবি, বিয়েতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি গাড়ি এবং আরও প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল।
বিয়ের পর ২ জুন তিনি দিল্লিতে স্বামীর বাড়িতে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই বিয়েতে পাওয়া সামগ্রী নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে taunt ও অপমান করতেন বলে অভিযোগ। পণ নিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থাও করা হত বলে দাবি তাঁর।
বিয়ের প্রায় এক মাস পর, ৪ জুলাই স্বামীর সঙ্গে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে হানিমুনে যান ওই মহিলা। সেখানেই ঘটে কথিত নির্যাতনের ঘটনা।
মহিলার অভিযোগ, হানিমুন চলাকালীন তাঁর ঋতুস্রাব শুরু হয়। এর সঙ্গে ছিল তীব্র পেটে ব্যথা এবং অতিরিক্ত রক্তপাত। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী রেগে যান। কেন তিনি আগে থেকে ঋতুস্রাবের কথা জানাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন নিখিল।
অভিযোগ, এরপরই স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর জন্য নাকি তাঁর ‘মুড নষ্ট’ হয়ে গিয়েছে। তারপরই শুরু হয় মারধর। মহিলার দাবি, তাঁকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। একপর্যায়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করারও চেষ্টা করেন স্বামী। তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের কর্মীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগ।
হানিমুন থেকে দিল্লিতে ফিরে ঘটনার কথা শাশুড়ি ও ননদকে জানান ওই মহিলা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তাঁরা তাঁর পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে অভিযোগ। মহিলার দাবি, তাঁর স্বামী তাঁর বাবাকে ফোন করে দিল্লিতে আসতে বলেন এবং মেয়েকে গোরখপুরে নিয়ে যেতে বলেন। একইসঙ্গে তিনি আর স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে চান না বলেও শ্বশুরকে জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
মহিলার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ বিয়ের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই তাঁর দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। মেয়েকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে তাঁর বাবা দিল্লিতে গেলে তাঁকেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন অপমান করেন বলে অভিযোগ এফআইআরে।
শুধু তাই নয়, বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়িকে দেওয়া নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রীও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি মহিলার। তাঁর আরও অভিযোগ, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরেও স্বামী তাঁকে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা পাঠাতে থাকেন।
মহিলার পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু একাধিকবার স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা সত্ত্বেও প্রথম দিকে এফআইআর নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দুই পরিবারের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টাও চলে। তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
গত ১৫ অগস্ট গোরখপুর SSP ড. কৌস্তভের হস্তক্ষেপের পর মামলা রুজু করে পুলিশ। স্বামী নিখিল মিশ্র, তাঁর মা এবং বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও প্রায় তিন বছর পর এফআইআর দায়ের হওয়ায় ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মহিলার অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁর আনা সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper