AB Live News
“বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু! কাঁপল তৃণমূল শিবির”
শ্রীতমা ব্যানার্জী : ২১ জুলাইয়ের তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশের পরদিনই বুধবার বিধানসভায় পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট বিতর্কের জবাবে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্নীতি, নারী সুরক্ষা, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার এবং তোষণের রাজনীতি নিয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাইয়ের সভায় করা মন্তব্যের জবাবে শুভেন্দু বলেন, “একজন চিহ্নিত চোর আমাদের জ্ঞান দিচ্ছে। সময়ই বলবে, তিনি জেলের ভিতরে থাকবেন না বাইরে। আগে বাইরে থাকুন, তারপর হিসাব মেটানোর কথা বলবেন।” নাম না করেই অভিষেককে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “একটি আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, গরুর গাড়ির হেডলাইট।”
ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেখানে ৪০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোট রয়েছে। তবুও আমি আপনাকে আরও বড় ব্যবধানে হারাব। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভাইপো-কেন্দ্রিক তৃণমূলকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের ঘটনায় অসংবেদনশীল মন্তব্য করার অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। কামদুনি, বারাসত, ময়নাগুড়ি এবং আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাজ্যের নারীদের প্রতি সরকারের মনোভাবকেই প্রকাশ করেছিল।
আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুন মামলার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর দাবি, “এই মামলার ফাইল এক বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। আমি ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছি এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” দুর্নীতির অভিযোগে সিপিএম ও তৃণমূল—উভয়কেই নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সৎ মানুষের ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলে পাঠানো হবে এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।”
২১ জুলাইয়ের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেরও কড়া জবাব দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “প্রতিটি মামলার পুনঃতদন্ত হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
রাজ্যে পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমরা পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে।” ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও খারিজ করে শুভেন্দু বলেন, “আমরা যদি সত্যিই ওই সভা আটকাতে চাইতাম, পৃথিবীর কোনও শক্তিই তা হতে দিত না।” সমাবেশের ভিড় নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ উপস্থিত ব্যক্তি ছিলেন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বা তদন্তের মুখে থাকা তৃণমূলের নেতা-কর্মী। বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে ২৬ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ১৬ হাজারকে চলতি বছরের দুর্গাপুজোর আগেই নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “শরণার্থীদের স্বাগত জানাব, কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া হবে।”
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

