AB Live News
“জমি থেকে স্টার্টআপ, দিনরাত খোলা ব্যবসার দুয়ার— অর্থনীতির নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত বাংলা”
শ্রীতমা ব্যানার্জী : পশ্চিমবঙ্গকে আরও বেশি বিনিয়োগবান্ধব ও শিল্পোন্নত রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে একাধিক যুগান্তকারী সংস্কারের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত শিল্প, ব্যবসা এবং প্রযুক্তি খাতকে উৎসাহ দিতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।
১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে সিঙ্গল-উইন্ডো ছাড়পত্র
নতুন নীতির অধীনে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলিকে আর জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত বা স্থানীয় সংস্থার কাছ থেকে আলাদা করে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন অনুমতি নিতে হবে না। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্যস্তরের সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্ত ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
আরবান ল্যান্ড সিলিং আইনের পর্যালোচনা
বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পথে থাকা বাধা দূর করতে আরবান ল্যান্ড (সিলিং অ্যান্ড রেগুলেশন) আইন, ১৯৭৬ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে শহরাঞ্চলের জমির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ানো এবং শিল্প বিকাশে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শিল্পের জন্য তৈরি হবে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক
শিল্পের জন্য সহজে জমি উপলব্ধ করতে রাজ্য সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে একটি বৃহৎ ল্যান্ড ব্যাঙ্ক গড়ে তোলা হবে। শিল্পাঞ্চলে বরাদ্দ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া জমি নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী ফেরত নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পুনরায় বরাদ্দ করা হবে।
কলকাতাসহ বড় শহরে ২৪×৭ ব্যবসার অনুমতি
পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৬৩-এ সংশোধন এনে দোকান, রেস্তোরাঁ, অফিস, লজিস্টিক ও আতিথেয়তা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘণ্টা চালানোর অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শ্রমিক সুরক্ষা বজায় রেখে প্রথম পর্যায়ে কলকাতা ও অন্যান্য বড় শহরে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।
সিন্ডিকেট ও বেআইনি আদায়ের বিরুদ্ধে কড়া আইন
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং ব্যবসার খরচ কমাতে বেআইনি আদায়, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার কথাও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
তিন মাসের মধ্যে নতুন স্টার্টআপ নীতি
প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন স্টার্টআপ নীতি আনা হবে। এর জন্য ৪০ কোটি টাকার ইনকিউবেশন ফান্ড, ৬০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং গভীর প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রতিভা আকর্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকার মুখ্যমন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিভা আকর্ষণ তহবিল গঠন করা হবে।
আসছে GCC নীতি ও CSE পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ
উচ্চমূল্যের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আকর্ষণের জন্য আলাদা গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) নীতি আনা হবে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য ক্লাউড কিচেন নীতি
মহিলা উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নতুন ক্লাউড কিচেন নীতি চালু করা হবে। এতে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ম, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং পরিদর্শন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলিকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

