AB Live News
সই-বিতর্কে CID দফতরে কুণাল ঘোষ
বিধানসভার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের সই সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে এবার সরাসরি রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা তথা সিআইডির মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সকালেই তিনি কলকাতার ভবানী ভবনে অবস্থিত সিআইডি সদর দফতরে এসে পৌঁছন। এই তলবকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভবানী ভবনের বাইরে এবং ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সম্পূর্ণভাবে এই তদন্ত প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই একই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সিআইডি তলব করেছে এবং আজই ভবানী ভবনে এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা বা বয়ান মেলানোর একটি প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই জল্পনা সত্য প্রমাণিত হলে তা যে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে এক অভূতপূর্ব মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।
এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভার একটি বিশেষ সংকল্প বা প্রস্তাবের নথিতে সইয়ের সত্যতা এবং বৈধতা নিয়ে। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় আসে। বিধানসভার স্পিকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বা সুপারিশে এই তদন্তভার সিআইডির হাতে ন্যস্ত করা হয়। রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকেরা এই ঘটনার গভীরে পৌঁছনোর জন্য নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সেই সূত্রেই কুণাল ঘোষের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট সময়েই তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে ভবানী ভবনে হাজিরা দেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি থেকে শুরু করে তা পেশ করা এবং পরবর্তী সময়ে সই সংগ্রহের যে প্রক্রিয়া চলেছিল, তার প্রতিটি পর্যায় সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। কুণাল ঘোষের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে রেকর্ড করা হচ্ছে কারণ তিনি দলের একজন অত্যন্ত সক্রিয় এবং নীতিনির্ধারক স্তরের নেতা হিসেবে এই ধরনের রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকেন।
ভবানী ভবনে প্রবেশের মুখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছেন নিজেকে। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, একজন আইনমান্যকারী নাগরিক এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে এসেছেন। তাঁর কাছে এই বিষয়ে যা যা তথ্য বা বক্তব্য রয়েছে, তা তিনি তদন্তকারী আধিকারিকদের স্পষ্ট ভাষায় জানাবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এই জিজ্ঞাসাবাদের চেয়েও বেশি চর্চা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সম্ভাবনা এবং তাঁর সঙ্গে কুণাল ঘোষের সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠক বা জেরা নিয়ে। সিআইডির একটি বিশেষ সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই মামলার তদন্তে এমন কিছু অসঙ্গতি বা অস্পষ্টতা নজরে এসেছে যা দূর করার জন্য দুই নেতার বক্তব্য একসঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। নথিপত্রের আদানপ্রদান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা স্পষ্ট করতেই এই মুখোমুখি বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা এক নতুন শিখরে পৌঁছেছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, বিধানসভার মতো একটি পবিত্র জায়গার নথিতে সই নিয়ে যে জালিয়াতি বা বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পেছনে গভীর কোনও ষড়যন্ত্র কাজ করছে। তারা এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আইন নিজের পথেই চলবে এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হবেই। ভবানী ভবনের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের শেষে কুণাল ঘোষ বা গোয়েন্দা আধিকারিকদের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী মোড়। বিকেলের দিকে তদন্তের জল কোন দিকে গড়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘটে কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

