AB Live News
সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ: শমীক ভট্টাচার্য
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ভরাডুবির পর এই প্রথমবার জনসংযোগ করতে সরাসরি রাস্তায় নেমেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রথম দিনেই তাঁকে বেনজির ও নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়তে হল। দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরে পা রাখতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ছোড়া হতে থাকে ডিম, জুতো এবং কাদা। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসতে থাকে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ‘চোর চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত জনতার হাতে সশরীরে মার পর্যন্ত খেতে হয় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এমন আকস্মিক ও মারাত্মক হামলায় সোনারপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধে৵ই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে সরাসরি আঙুল তোলা হয়েছে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির দিকে। তৃণমূলের দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ন্যাক্কারজনক ও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে।
শাসক দলের এই গুরুতর অভিযোগের পর রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই ধুন্ধুমার কাণ্ড এবং তৃণমূলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে মুখ খুলেছেন বিজেপির নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক আবহাওয়ায় এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য বা সমর্থনযোগ্য নয়। তবে একইসঙ্গে তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, এই অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের কোনও কর্মী বা সমর্থক কোনওভাবেই যুক্ত নন। এটি আসলে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে তিনি অতীতের বেশ কিছু ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের শাসনকালে কীভাবে বিজেপির সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা রাজ্যবাসী ভালো করেই জানেন। এমনকি বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও প্রকাশ্য রাস্তায় পুড়িয়ে মারার ভয়াবহ চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বিজেপি চরম উস্কানির মুখেও অত্যন্ত সংযত এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে চলেছে। আর বিজেপি আজ এতটা সংযত রয়েছে বলেই তৃণমূলের মন্ত্রী এবং বিধায়করা এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বুকে বুক ফুলিয়ে অক্ষত অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে পারছেন। বিজেপি যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিত, তবে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।
এদিকে সোনারপুরের এই নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ আক্রান্ত সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাংসদ তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কর্মসূচিতে কেন সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা ছিল না? কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হল না? গোয়েন্দা বিভাগের কাছেই বা কেন এই বিক্ষোভের আগাম কোনও তথ্য ছিল না, সেই বিষয়েও তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম গাফিলতির নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নটিকে সম্পূর্ণভাবে লুফে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই বিষয়ে শমীক ভট্টাচার্যকে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে গোটা বিষয়টি রাজ্য সরকারের কোর্টেই ঠেলে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ঘটনাস্থলে কেন পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না বা পুলিশ কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হল, তা তিনি বলতে পারবেন না। কারণ তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি মাত্র, সরকারের কোনও অংশ নন। পুলিশ প্রশাসনের এই চরম ব্যর্থতার সদুত্তর একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এবং তাদের স্বরাষ্ট্র দফতরই দিতে পারবে। এই জবাবের মধ্য দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য যেমন একদিকে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে মান্যতা দিলেন, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূল সরকারের অভ্যন্তরেই সমন্বয়ের অভাবকে প্রকাশ্যে এনে আরও একবার তীব্র কটাক্ষ করলেন। সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোট-পরবর্তী বাংলায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা এবং কাদা ছোড়াছুড়ি এখন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

