Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সিআইডির নোটিস নিলেন অভিষেক

0 5,490,721,725

 শান্তিনিকেতনে দেখা না পেয়ে অবশেষে শনিবার দুপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইডি। সই-সংক্রান্ত একটি মামলার জেরে আগামী সোমবার ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সিআইডি আধিকারিকদের কাছ থেকে নিজেই সেই নোটিস গ্রহণ করেন তৃণমূল সাংসদ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিআইডির এই তৎপরতার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার দুপুরে আচমকাই সিআইডির একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ হাজির হয়। কিন্তু সেই সময় তৃণমূল সাংসদ ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি সেই সময় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে বেলেঘাটায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছিলেন তিনি। শান্তিনিকেতনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখা না পেয়ে সিআইডি আধিকারিকেরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

এরই মধ্যে কুণাল ঘোষের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিআইডির হানা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ‘শান্তিনিকেতন’ নামের ওই বাড়িতে থাকেন না। তাঁর সঙ্গে যদি কারও দেখা করতে হয় বা যোগাযোগ করতে হয়, তবে তাঁকে কালীঘাটের এই বাড়িতেই আসতে হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের কিছু ক্ষণের মধ্যেই সিআইডির দল হরিশ মুখার্জি রোড থেকে রওনা দিয়ে কালীঘাটের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয়।

কালীঘাটের বাড়ির নীচে অবস্থানকারী সিআইডির এক পদস্থ আধিকারিক জানান, নোটিসটি তাঁরা অন্য কারও হাতে নয়, স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তুলে দিতে চান। সিআইডি অফিসারদের এই ইচ্ছার কথা তৎক্ষণাৎ সাংসদকে জানানো হলে তিনি তাঁদের অপেক্ষা করতে বলেন। এর কিছু ক্ষণ পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নীচে নেমে আসেন এবং সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই তাঁর হাতে আগামী সোমবার ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নোটিসটি তুলে দেওয়া হয়।

সিআইডির নোটিস গ্রহণ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওঁরা একটা নোটিস নিয়ে এসেছিলেন। আমি সেটা নিজে হাতে নিয়েছি। তবে এখনও সেটা খুঁটিয়ে পড়িনি। এই বিষয়ে আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। আইনি পথেই এর মোকাবিলা করা হবে। তদন্তে বা কোথাও সহযোগিতার জন্য ডাকলে আমি অবশ্যই যাব। কারণ আমার লুকোনোর মতো কিছু নেই। এর আগেও যখন ইডি বা সিবিআই আমাকে ডেকেছে, আমি পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার বা সরে দাঁড়ানোর মানুষ আমি নই।’’

সিআইডির এই আচমকা তৎপরতা ও হানাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এগুলোর নেপথ্যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যারা এই ধরনের কাজ করে, তারা বেশি দিন ক্ষমতায় টিকতে পারে না। রাজ্যে একটা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ ভাবে ভয় দেখিয়ে আমার মাথা নত করা যাবে না।’’

একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) একটি নোটিস নিয়েও মুখ খোলেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কলকাতা পুরসভার ওই নোটিসটির বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করতে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হব। দেশের নাগরিক হিসেবে আমার সেই পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আমার যা জবাব দেওয়ার ছিল, তা আমি ইতিমধ্যেই লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি।’’

এর পরেই সিআইডি ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, ‘‘সিআইডি আসলে কী? আমি এদের ইডি বা সিবিআইয়ের সামনেও কোনও দিন মাথা নত করিনি। এদের দশ পুরুষও যদি চায় আমাকে সিআইডি দিয়ে, কেএমসি দিয়ে, ইডি দিয়ে কিংবা বাড়ি ভেঙে— যা ইচ্ছা করে হেনস্থা করে নিক, আমি দমার ছেলে নই। দিল্লির কাছে মাথা নত করার আগে আমার মৃত্যু অনেক ভাল।’’

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘অমিত শাহের পদলেহন করে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এবং মাথায় দু’তিনটি ইডি-সিবিআই কেস নিয়ে এখন অনেকে বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন। এর আগে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দু’কান কাটার মতো হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে দেখা যায়নি। আর এরা এখন আবার আমাদের চোর বলে কটাক্ষ করে।’’

উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ভবানীপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রসঙ্গেও ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘অমিত শাহ যখন উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা বলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয় না। আমাকে ঝোঁকাতে হলে ওঁদের অন্তত ৬০ বার জন্ম নিতে হবে। ক্ষমতা থাকলে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে দেখাক। আমি সম্পূর্ণ আইনি পথে এই রাজনৈতিক লড়াই লড়ব।’’

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper