Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

৫০ বছর পর উত্তর দমদমে স্বপ্নপূরণ, ঘরে এল বিদ্যুৎ

0 409,723,774

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামা অত্যাধুনিক বিমানগুলির গর্জন এবং সেই চত্বরের চোখধাঁধানো ঝলমলে আলো স্পষ্ট চোখে পড়ে এখান থেকে। অথচ তিলোত্তমার একেবারে দোরগোড়ায়, সেই আলোর শহরেরই এক একাকী কোণে বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন ও তিমিরান্ধকার অবস্থায় দিন কেটেছে একটি অসহায় পরিবারের। উত্তর দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গ্লোব নার্সারি এলাকার বাসিন্দা আরতি মণ্ডলের পরিবারে সন্ধ্যা নামলেই কেরোসিনের ল্যাম্প বা লণ্ঠন, আর তীব্র গরমে সামান্য হাতপাখাই ছিল জীবনযুদ্ধের একমাত্র নিত্যসঙ্গী। সেই আদিম অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই একে একে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন আরতি দেবীর শ্বশুর, শাশুড়ি এবং তাঁর স্বামী। ল্যাম্পের টিমটিমে আলোয় চোখ আর ফুসফুস পুড়িয়ে পড়াশোনা করে বড় হয়েছে তাঁর নাতনি। বিগত পাঁচ দশকে স্থানীয় পুর প্রশাসন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ দপ্তরের দরজায় বহুবার আবেদন-নিবেদন করেও মেলেনি এক চিলতে বিদ্যুতের সংযোগ। শেষ বয়সে এসে নিজের ঘরে আলোর মুখ দেখার আশা কার্যত ছেড়েই দিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা আরতি দেবী। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই আচমকা বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর নির্দেশ এবং স্থানীয় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের অভূতপূর্ব তৎপরতায় যে অসাধ্য সাধন বিগত পাঁচ দশকেও সম্ভব হয়নি, তা সম্পন্ন হল মাত্র সাতদিনের রেকর্ড সময়ে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বাড়ি বাড়ি ঘোরার সময় প্রথম এই হতদরিদ্র পরিবারের দীর্ঘদিনের নির্মম যন্ত্রণার কথা জানতে পেরেছিলেন উত্তর দমদমের বিজেপি প্রার্থী সৌরভ সিকদার। সেই সময়ই তিনি আরতি দেবীর অশ্রুসজল চোখ দেখে এই মানবিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের এক দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হতেই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়কের দাবি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে অবিলম্বে ওই দুর্গত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মেলা মাত্রই বিধায়ক বিদ্যুৎ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আবেদন জমা দেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই আরতি মণ্ডলের জরাজীর্ণ বাড়িতে পৌঁছে যায় বহুল প্রতীক্ষিত বৈদ্যুতিক মিটার ও তার। দীর্ঘ ৫০ বছরের কুৎসিত অন্ধকার কাটিয়ে আরতি দেবীর ঘরে যখন প্রথম বৈদ্যুতিক আলো জ্বলে উঠল, তখন তা যেন মণ্ডলের পরিবারের কাছে এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। চোখের জল মুছতে মুছতে আরতি মণ্ডল জানান যে, কত বছর ধরে কত নেতার দরজায় ঘুরেছেন, কতজনের কাছে হাত পেতেছেন, আজ আর সেই সব অপমানের কথা তিনি মনে রাখতে চান না। সারা জীবন অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে অত্যন্ত কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, তাঁর স্বামী ঘরের আলো বা পাখার ন্যূনতম আরাম না পেয়েই অন্ধকারের মধ্যে ধুঁকে ধুঁকে মারা গিয়েছেন। তিনি কোনওদিন ভাবেননি যে এই জীবনে তাঁর নিজের ঘরে কখনও কারেন্ট আসবে। আজ তাঁর আনন্দের কোনও সীমা নেই। অত্যন্ত আবেগঘন গলায় বৃদ্ধা আরও যোগ করেন যে, তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী প্রত্যেকেই অন্ধকারে মারা গিয়েছেন। এত বছর পর আজ তিনি আলো দেখতে পেলেন এবং এখন মনে হচ্ছে বাকি জীবনটা অন্তত একটু শান্তিতে ও আলোতে কাটাতে পারবেন। আরতি দেবীর নাতনি বৃষ্টি মণ্ডল জানান যে, ছোটবেলা থেকে ল্যাম্পের আলোয় পড়াশোনা করতে হয়েছে তাঁকে। বহু জায়গায় গিয়েও কোনও সাহায্য মেলেনি। ভোটের আগে যখন নতুন বিধায়ককে এই কষ্টের কথা বলেছিলেন, তিনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। বৃষ্টি তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং আজ সেই নেতা তাঁর দেওয়া কথা রেখেছেন। তাঁদের মতো দরিদ্র মানুষের কাছে এটা একপ্রকার স্বপ্নপূরণের শামিল। অন্যদিকে, কেবল বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করে দেননি উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার। ওই পরিবারের চরম আর্থিক ও সামাজিক অনগ্রসরতার কথা বিবেচনা করে অন্ত্যোদয় অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, সরকারি আবাসন প্রকল্পসহ অন্যান্য সমস্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা যাতে দ্রুত তাঁদের কাছে পৌঁছায়, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেছেন তিনি। এই বিষয়ে বিধায়ক সৌরভ সিকদার জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এত কাছে একটি ভারতীয় পরিবার দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বসবাস করছে, এটা যে কোনও সভ্য সমাজের এবং পূর্বতন সরকারের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্যক্তিগতভাবে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কড়া নির্দেশ দেন। মানুষের প্রকৃত সেবা ও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের সরকারের প্রধান কর্তব্য। অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর এক লহমায় স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে ওই পরিবারে। যে জরাজীর্ণ বাড়িতে এতদিন সন্ধ্যা নামলেই কেরোসিনের বিষাক্ত ধোঁয়া আর ল্যাম্পের আলো জ্বলত, সেখানে এখন জ্বলছে আধুনিক বৈদ্যুতিক আলো, ঘুরছে সিলিং ফ্যান। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অন্তহীন ও যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আলোর দিশা পাওয়ায় খুশির জোয়ার আরতি মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মনে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper