Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

অস্ত্র মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ সাংসদ মালা রায়ের

0 9,834,679,403

ভোট পরবর্তী হিংসা এবং বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগে অবশেষে আইনের দরবারে মাথা নোকাতে বাধ্য হলেন রাজ্যের শাসকদলের অন্যতম শীর্ষনেত্রী। গত ২৬ এপ্রিল নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কলকাতার বুকে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার জল গড়াল আদালত কক্ষ পর্যন্ত। আলিপুর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায় এবং তাঁর পুত্র নির্বাণ রায়। দীর্ঘ টানাপড়েন এবং গ্রেপ্তারির চরম আশঙ্কার পর আলিপুর আদালতের বিচারকের এজলাসে এই হাই-প্রোফাইল আত্মসমর্পণ পর্বটি সম্পন্ন হল। আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁদের জামিনের আর্জি মঞ্জুর করলেও, শর্ত হিসেবে মাথাপিছু এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং নির্দিষ্ট দিনে আদালতে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশও জারি করা হয়েছে।

শাসকদলের এই হেভিওয়েট সাংসদ ও তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকাটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও গুরুতর। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ২৬ এপ্রিল রাতে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে টালিগঞ্জ থানা এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মালা রায় এবং তাঁর পুত্র নির্বাণ রায়ের প্রত্যক্ষ উসকানিতে এবং নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত দুষ্কৃতী ওই এলাকার একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, বিশেষ করে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চড়াও হয়। শুধু মৌখিক হুমকি বা মারধরই নয়, অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, সাংসদ ও তাঁর পুত্রের উপস্থিতিতেই বিরোধী কর্মীদের লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এই ঘটনার পর আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ ও আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা টালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং একই সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর অস্ত্র আইনে (Arms Act) মামলা রুজু করতে বাধ্য হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চললেও, শাসকদলের এই নেত্রী গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে আড়ালে থাকার চেষ্টা করছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। তবে সম্প্রতি তদন্তের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত মেলায়, আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁরা আদালতে হাজির হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সকাল থেকেই আলিপুর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কড়া পুলিশি প্রহরার মধ্যে মালা রায় এবং নির্বাণ রায় আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন এবং বিচারকের সামনে নিজেদের সমর্পণ করেন। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন যে, এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাল্টা সরকারি আইনজীবী এবং আক্রান্তদের পক্ষের আইনজীবীরা এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে, একজন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে অস্ত্র নিয়ে এই ধরনের তাণ্ডব চালানো আইনের শাসনের পরিপন্থী। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক শেষ পর্যন্ত এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা একে শাসকদলের ‘দুষ্কৃতী সংস্কৃতির’ এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল কীভাবে আইন-কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের ক্যাডার ও নেতাদের দিয়ে হিংসার রাজনীতি চালায়, এই ঘটনা তারই জীবন্ত প্রমাণ। একজন সাংসদ নিজেই যেখানে অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়— সেই প্রশ্নও তুলেছে বিরোধী শিবির।

পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে বিরোধী political দলগুলির একটি সাজানো নাটক এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি পথেই এই মিথ্যা মামলার মোকাবিলা করা হবে বলে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জামিন মিললেও এই মামলার তদন্ত কিন্তু এখানেই থেমে থাকছে না। টালিগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, ঘটনার রাতের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। আইন অমান্যকারী যেই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কলকাতার মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিভিআইপি কেন্দ্রে একজন দায়িত্বরত সাংসদের এই ধরনের অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের এজলাসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যে যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছে, এই ঘটনা তাতে নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper