Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

আজ উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

0 509,321,713

 রাজ্যে মসনদ বদলের পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে যেমন তৎপরতা তুঙ্গে, তেমনই আমজনতার প্রত্যাশার পারদও চড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজই তাঁর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। এই সফরে তিনি যেমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করবেন, তেমনই শিলিগুড়ির দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত একটি বড় পরিকাঠামো তথা উড়ালপুলের উদ্বোধনও করবেন। স্বাভাবিকভাবেই, নতুন সরকারের এই প্রথম সফর থেকে উত্তরবঙ্গের জন্য কী বার্তা আসে, সেদিকেই গভীর নজর রয়েছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলের।

প্রশাসন ও দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ সকাল ঠিক ১০ টায় বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দর থেকে নেমে তিনি সরাসরি চলে যেতে পারেন বিজেপির জেলা কার্যালয়ে, যেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। এরপর সেখান থেকে তাঁর কনভয় সরাসরি রওনা দেবে শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’র উদ্দেশ্যে। এই উত্তরকন্যা প্রশাসনিক ভবনেই আজ এক হাই-প্রোফাইল মেগা প্রশাসনিক বৈঠক ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের এই মেগা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের ক্রীড়া এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের সমস্ত বিধায়কদের। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন এই পাঁচ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের সমস্ত আধিকারিকরা।

এবারের এই প্রশাসনিক বৈঠকের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল রাজনৈতিক সৌজন্য এবং ‘বিরোধী বয়কট’ সংস্কৃতির অবসান। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনামলে উত্তরবঙ্গের কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দল তথা বিজেপির বিধায়কদের ডাক পাওয়ার কোনও নজির ছিল না বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ। কিন্তু জমানা বদলের সাথে সাথেই সেই চিরাচরিত রীতির অবসান ঘটিয়ে এক সম্পূর্ণ উলটো ছবি দেখতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিরোধী দল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশেষ করে কোচবিহারের সিতাই কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক সংগীতা রায়কে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের বিধায়করা এই উন্নয়নমূলক এবং প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক विशेषज्ञोंের মতে, মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, উন্নয়ন কোনও রাজনৈতিক রঙের ওপর ভিত্তি করে হবে না, বরং তা হবে সামগ্রিক।

যেহেতু সামনেই বর্ষাকাল, তাই এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের প্রধান এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সমস্যা বিশেষভাবে অগ্রাধিকার পেতে চলেছে। বিগত বছরগুলিতে বর্ষার মরশুমে পাহাড় এবং সমতলে যে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে নতুন সরকার। বৈঠকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান মোকাবিলা, পাহাড়ের মারাত্মক ভূমিধস সমস্যা এবং ডুয়ার্স ও সমতলের নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে এই বিষয়ে বর্তমান প্রস্তউতির খতিয়ান নেবেন। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হবে এই বৈঠকে।

একই সাথে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের ব্যাধি তথা জমি, বালি ও পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠের বিরুদ্ধে নতুন সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ), গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ), উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা পরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভাগুলির ভেতরে চেপে বসা অচলাবস্থা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও এই বৈঠকে কড়া অবস্থান নিতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন সরকারের আমলে আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতির কারণে যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক এবং পরিকাঠামোগত প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে থমকে ছিল, সেগুলির জট ছাড়িয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। চা বাগানের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি ও বাসস্থানের সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি বন্ধ বাগানগুলি খোলার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী বড় কোনও রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে দু’হাত উজাড় করে vote দিয়েছেন। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার বা দার্জিলিংয়ের মতো বড় জেলাগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেস খাতা পর্যন্ত খুলতে পারেনি। কার্যত একতরফাভাবে গেরুয়া ঝড় বয়ে গিয়েছে সমগ্র উত্তরবঙ্গে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের ওপর উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চাপও পাহাড়প্রমাণ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে যে ত্রিফলা বাতির কেলেঙ্কারি, সিন্ডিকেট রাজ, সরকারি জমি এবং নদী-জলাভূমি জবরদখল, চা বাগানের বহুমূল্য জমি প্রোমোটারদের হাতে বেআইনিভাবে তুলে দেওয়া কিংবা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে ক্ষমতাশালীদের মদতে গজিয়ে ওঠা বেআইনি লাক্সারি রিসর্ট—এইসব বিষয় নিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল। মানুষ এখন চান এই প্রতিটি কেলেঙ্কারি ও বেআইনি কাজের যথাযথ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হোক। মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠক থেকে এই বিষয়ে কোনও বড়সড় তদন্তের নির্দেশ দেন কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।

নির্বাচনী প্রচারের সময়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গে আইআইটি, এইমস-এর সমতুল্য বিশ্বমানের হাসপাতাল এবং একটি আধুনিক ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, constitutional পরিকাঠামোর ভেতরে থেকে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কামতাপুরি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। স্বাভাবিকভাবেই, রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কীভাবে এগোবে, তার একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত আজ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যা থেকে বৈঠক শেষ করে দুপুর ২ টো নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে আবার কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তবে তার আগে শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডে বহু প্রতীক্ষিত উড়ালপুলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি, যা শহরের যানজট সমস্যা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব মিলিয়ে, ক্ষমতা দখলের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম উত্তর সফর ঘিরে চরম কৌতুহল এবং প্রত্যাশার পারদ চড়ছে উত্তরবঙ্গে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper