AB Live News
আতঙ্কে ঘাটাল, বিদ্ধ তৃণমূল
রাতের অন্ধকারে হঠাৎই জনবহুল এলাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠল তিনটি হাড়িকাঠ। আর সেই হাড়িকাঠকে কেন্দ্র করেই এখন চরম আতঙ্ক আর তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুটছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা। মঙ্গলবার রাতে এই হাড়িকাঠ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে গোটা মহকুমায়। শুধু হাড়িকাঠ পুঁতে রাখাই নয়, সংলগ্ন এলাকায় ঝোলানো হয়েছে একটি সাদা কাগজের দীর্ঘ তালিকা। সেই তালিকায় স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে স্থানীয় এক ডজন তৃণমূল নেতা ও কর্মীর নাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে ভয়াবহ ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বা বুধবার ভোরের আলো ফোটার আগে কোনও এক সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা মনোহরপুর বাজারের কাছে রাস্তার ধারে তিনটি হাড়িকাঠ পুঁতে দিয়ে যায়। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন। হাড়িকাঠের সঙ্গেই একটি কাগজে হাতে লেখা বার্তায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে ২০১১ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে। সেখানে লেখা রয়েছে, ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই নেপাল মানিক নামে এক ব্যক্তিকে কেন ঘরছাড়া হতে হয়েছিল এবং কেন তাঁর নামে একাধিক পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তার জবাব দিতে হবে। এই বার্তার নিচে একে একে ১২ জন তৃণমূল নেতা ও সক্রিয় কর্মীর নাম লিখে তাঁদের কার্যত ‘বলি’ দেওয়ার বা চূড়ান্ত পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমান এলাকায়। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি স্রেফ নিছক রসিকতা নয়, বরং বিরোধীদের পরিকল্পিত এক খুনের হুমকি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি তথা বিদায়ী প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলুই এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন যে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এই এলাকায় বিজেপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করছে। তাঁর অভিযোগ, গেরুয়া শিবির পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে এখন তৃণমূল কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে, ভাঙচুর করছে এবং শেষে এই হাড়িকাঠ পুঁতে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সূর্যকান্তবাবুর কথায়, হাড়িকাঠে নাম লিখে ঝোলানোর অর্থ হল আমাদের কর্মীদের বলি দেওয়ার হুমকি দেওয়া। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই ধরনের আদিম ও পাশবিক ভয়ের রাজনীতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যাতে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেয়।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি শিবির। বিজেপির স্থানীয় মন্ডল সভাপতির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর পাল্টা যুক্তি, বিগত এক দশকে এলাকায় তৃণমূলের যে অপশাসন ও অত্যাচার চলেছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই হয়তো স্থানীয় কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন। বিজেপি এই ধরনের হিংসায় বিশ্বাস করে না বলেই তিনি দাবি করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই মনোহরপুর বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ হাড়িকাঠগুলি উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে এবং কারা এই পোস্টার ও তালিকার নেপথ্যে রয়েছে, তা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাটাল মহকুমার রাজনীতিতে যে বড়সড় সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। সমাপ্ত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

