Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

মিষ্টিমুখে নয়া ইতিহাস: ব্রিগেডের শপথ মঞ্চে ‘মোদিশ্রী’ ও ‘শঙ্খপদ্ম’

0 698,765,056

 তিলোত্তমার রাজপথ আজ গেরুয়া আবিরে রাঙানো। পঁচিশে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীতে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা। ব্রিগেডের সুবিশাল ময়দানে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে আক্ষরিক অর্থেই ‘মিষ্টিমুখ’ করে তুলতে কোমর বেঁধে নেমেছে বাংলার তাবড় তাবড় মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানগুলি। রাজনীতি আর বাঙালির রসনাতৃপ্তির মেলবন্ধনে আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড যেন এক বিশাল মিষ্টির মেলা।

সকাল থেকেই ব্রিগেডের চারপাশ লোকে লোকারণ্য। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল সামলাতে নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই উৎসবের মেজাজ। আর এই উৎসবের মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়েছে কে সি দাস, বাঞ্ছারাম কিংবা ব্যাতাইয়ের মতো খ্যাতনামা মিষ্টির দোকানের সুসজ্জিত স্টলগুলি। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য একটাই—ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে বাঙালির অস্মিতা আর ঐতিহ্যের আবহে স্মরণীয় করে রাখা। সেই লক্ষ্যেই রসগোল্লা থেকে সন্দেশ, প্রতিটি পদের গায়ে লেগেছে রাজনীতির নতুন রঙ এবং বিশেষ বিশেষ থিম।

সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে ‘মোদিশ্রী’ রসগোল্লা নিয়ে। কে সি দাসের কর্ণধার ধীমানচন্দ্র দাস জানিয়েছেন, এই রসগোল্লাটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন নির্বাচনী প্রচারে এসে রাজভবনে রাত্রিযাপন করেছিলেন, তখন ডিনারে এই বিশেষ ফ্লেভারের রসগোল্লাটিই পরিবেশন করা হয়েছিল তাঁর পাতে। জাফরান আর কেসরের যুগলবন্দিতে তৈরি এই জাফরানি রসগোল্লাটিই এখন ‘মোদিশ্রী’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের সেই স্বাদ আজ সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে ব্রিগেডের স্টলে। পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে গেরুয়া রঙের শঙ্খপদ্ম সন্দেশ। প্রতিটি মিষ্টির নকশায় পদ্মফুলের কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক জয়ের আবহে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

মিষ্টির দামও রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে। ২০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের ও স্বাদের মিষ্টি মিলছে এই স্টলগুলোতে। ব্যাতাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার ব্যাতাই সৈকত পাল জানিয়েছেন, আজকের এই দিনটি বাংলার জন্য ঐতিহাসিক। তাই তাঁরাও চেষ্টার কসুর করেননি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর অভিষেককে স্মরণীয় করতে একাধিক নতুন পদ আবিষ্কৃত হয়েছে তাঁদের কারখানায়। ভিড় সামলাতে কয়েক হাজার কেজি মিষ্টির মজুত রাখা হয়েছে প্রতিটি কাউন্টারে।

বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই উদযাপনের মধ্যেই হঠাৎ করে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে পদ্মফুলের বাজারদর। বিজেপির এই বিপুল সাফল্যের আনন্দ আর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ধুম—এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে জোগানে টান পড়েছে বাজারে। পাইকারি বাজারে যে পদ্মফুল মাত্র দু’টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হতো, শুক্রবার থেকেই তা ১০ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরো বাজারে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি কর্মীদেরও এক একটি পদ্ম কিনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, কলকাতার ফুল মার্কেটের ইতিহাসে শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে পদ্মফুলের এমন আকাশচুম্বী চাহিদা আগে কখনও দেখা যায়নি।

রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী আর নতুন মন্ত্রিসভার শপথ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত আবেগের জোয়ারে ভাসছে গোটা ব্রিগেড। একদিকে মাইকে বাজছে রবীন্দ্রসংগীত, অন্যদিকে কর্মী-সমর্থকদের জয়ধ্বনি। আর তার মাঝেই মোদিশ্রী রসগোল্লা আর শঙ্খপদ্ম সন্দেশের গন্ধে ম-ম করছে শপথের প্রাঙ্গণ। বাঙালির মিষ্টির আধিপত্যকে সামনে রেখেই আজ শুরু হতে চলেছে বাংলার এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper